আজকের পত্রিকায় সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের একটি দারুণ সাফল্যের খবর এসেছে। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল।
সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের উদ্যোগে বেঁচে গেলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা। গতকালকের পত্রিকায় এ সম্পর্কিত একটি খবর প্রকাশ হলে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ফাঁসি মওকুফের আবেদনটি বিবেচনা করেন এবং তাতে সায় দেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব:) সিআর দত্ত বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধা রাখালচন্দ্র নাহার প্রাণভিক্ষা করে রাষ্ট্রপতি বরাবরে আবেদন করেছিলেন। কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীও রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রাণভিক্ষার আবেদন জানান। সেনাপ্রধানের বিশেষ উদ্যোগেই রাখালচন্দ্র নাহার প্রাণ বেঁচে গেল। ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠন এ কারণে সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
খবরে প্রকাশ ১৯৯৯ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বেগমাবাদ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাখালচন্দ্র নাহার আত্মীয় জ্যাঠাতো বোনের জামাই শ্রী দীনেশচন্দ্র দত্ত তার লোকজন নিয়ে রাখালচন্দ্র নাহার বাড়িতে হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নিজেদের লোকদের লাঠির আঘাতে দীনেশ দত্ত মারাত্মক আহত হয় এবং পরে হাসপাতালে মারা যায়। এই ঘটনাতে রাখালচন্দ্র নাহার কোন হাত ছিল না। ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ তাকে ফাসির আদেশ প্রদান করেন। হাইকোর্টে আপীল করলে ২০০৪ সালের ৯ নভেম্বর তারিখে তা খারিজ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে মূল ঘটনার পর ১১ বছর পেরিয়ে গেছে। আজকে রাষ্ট্রপতির তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ফাসির আদেশটা স্থগিত করে দেন। রাখালচন্দ্র নাহার সন্তানেরা তার ১১ বছর জেল খাটার বিষয়টি বিবেচনায় এনে তাকে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ তাঁর আজকের এই কৃতিত্বের জন্য আমাদের মত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কাছ থেকে হাজার সালাম প্রাপ্য হয়ে গেলেন। তিনি বলেন -একজন মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রাখালচন্দ্র নাহাকে ফাসি দেয়া হবে সংবাদটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করলাম, হয়ত সে অন্যায় করেছেন। বিচারক তাই ঠিকই বিচার করেছেন। তবুও সে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তার প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো কর্তব্য।…. এটা আমাদের বিরাট প্রাপ্য যে রাখালচন্দ্র নাহা একজন বীর মক্তিযোদ্ধা। তিনি দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে শত্রুর সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। ….আমাদের সকলেরই দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। তারা মুক্তিযুদ্ধ করে তাদের জীবন দিয়েছেন আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, আমরা যদি তাঁদের দিকে না তাকাই, সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে দেই, তাহলে এটা বড়ই অন্যায় কাজ হবে।…. পত্রিকায় পড়েছি মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন জায়গায় না খেয়ে আছেন। আমরা এসব খবরের প্রতি দৃষ্টি দেব এবং দেশবাসীকে বলব তাদের প্রতি আমরা যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই।
সত্যিই তাই, আজ যেখানে রাজাকার আলবদররা বুক ফুলে রাস্তায় হেটে বেড়াচ্ছে। সেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা ফাসিতে মারা যাচ্ছিলেন এটা ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়। সেনাপ্রধান আমাদের মনকে আনন্দে পূর্ণ করেছেন এজন্য তাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।





