হায় নার্গিস!

দক্ষিণাঞ্চলে নার্গিস নামক ঘুর্ণিঝড় বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। শক্তিশালী এই ঝড়টি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আঘাত হানছে না। আজ মায়ানমারের ইয়াঙ্গুন এর উপর দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু এর প্রভাব ক্ষীণ নয়। কয়েকশত কিলোমিটার দূরের এই কুড়িগ্রামের আকাশ সারাদিন গুমোট ছিল, মেঘলা ছিল। বৃষ্টির ভয় ছিল। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি হল না। তবে গত কয়েকদিন থেকে প্রতিটি রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। আশেপাশের নিচু জমি জলে ভরে গেছে। কৃষকের মাথায় হাত। ধান পাকার উত্তুঙ্গ মুহূর্ত চলছে। কোন ক্ষেতে ধান পেকে গেছে। কোনটা দু’য়েকদিনের মধ্যে পাকবে। এই সময় ঝড়বৃষ্টি হলে কৃষকের সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এবং হয়েছেও তাই। বেশ কিছু জমিতে পাকা ধানের গাছ বাতাসে ও জলে ভিজে মাটিতে শুয়ে গেছে। কোন জমিতে জল জমে গেছে। কৃষকেরা ব্যস্ত হয়ে জলে ভেজা ধান বাড়িতে এনে তুলছে। যাদের পাকেনি তারাও আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছে। রোদের তেমন জোর নেই। ভেজা ধান বেশিদিন গাদা করে রাখলে পচে যেতে পারে। চালের এই দূর্মূল্যের বাজারে নার্গিস আমাদের জন্য অমঙ্গলের বার্তা বয়ে নিয়ে এল। নার্গিস এর জন্য গরম কমে গেলেও খাদ্যের ভাঁড়ারে টান পড়ার জোগার হয়েছে।

Leave a Reply