গ্রীষ্মকাল শেষ

ইদানীং বর্ষার যে ঘনঘটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে গ্রীষ্মকাল বুঝি শেষ হয়ে গেছে। সকালে যেমন রোদ থাকে; সূর্যের যে তেজ থাকে, সময় গড়ানোর সাথে সাথে তাতে ভাটার টান বাড়তে থাকে। আলোর উজ্জ্বল্য কমতে থাকে ধীরে ধীরে। আকাশ ঢেকে যায় ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘে। জমতে থাকে কোন এক কোণে। যেন মুখ গোমড়া করে বসে আছে অঝোর ধারায় ঝরবে বলে। সত্যি সত্যি কখনও ঝরেও পরে। চীৎকার চেঁচামেচিতে চরাচরে হৈচৈ তুলে কেঁদে কেটে একাকার।
আজকের দিনটা যেমন। সারাদিন ভালই ছিল। আকাশে কোদালচষা মেঘ ছিল। তাই বৃষ্টির আশংকা ছিল সবার। কিন্তু দিনটা কেটে গেল ভালই ভালই। মিসেসকে নিয়ে দুপুরে কয়েকটা জায়গায় গিযে কাজ সারলাম। আরও কিছু কাজ বাকী ছিল। ভেবেছিলাম বিকেলে সারা যাবে। কিন্তু দুষ্টু প্রকৃতির জন্য তা আর হল কই? যখন বের হব, পোষাক পরে তৈরি। আকাশে ততক্ষণে কাল হয়ে গেছে। ঘরের ভেতর থেকে ততটা টের পাওয়া যায়নি। জানালা দিয়ে কয়েকবার দেখেছিলাম অবশ্য। কিন্তু বাতাস ছিল বলে মনে হচ্ছিল হয়ত বৃষ্টি হবে না। বাতাসের বেগে মেঘ সরে যাবে। কিন্তু বাইরে বারান্দায় এসেই থমকে গেলাম। ততক্ষণে টুপটাপ বৃষ্টির ফোটা পড়তে শুরু করেছে। বাইরে যাওয়া আর হল না।
এ প্রসঙ্গে একটা মজার তথ্য উল্লেখ করছি। আমার মিসেস তার স্কুলের খাতা কাটছে। তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্র নতুন এক বিশেষণের জন্ম দিয়েছে। “টিনটিন বৃষ্টি”। শুনে মনের ভিতর একটা অনুরণনের সৃষ্টি হল। সত্যিই তো টিনের বাড়িতে বৃষ্টি তো ‘টিনটিন’ করে পরবেই।

Leave a Reply