হরেকৃষ্ণ সমাচার নিউজ হিসেবে মে ২০০৮ সংখ্যায় এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।
মিশরে সম্প্রতি এক খননকার্য চলার সময় খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতকের তৈরি একটি পাত্রে ভগ্নাবশেষ আবিষ্কৃত হয় যাতে প্রাচীন তামিল ব্রাহ্মী লিপি উৎকীর্ণ ছিল। লন্ডনে অবস্থিত ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মৃৎপাত্র বিশেষজ্ঞ ড: রবার্তো টম্বার এর মতে এই পাত্রটি নির্মিত হয়েছিল ভারতে। তামিল লিপি বিশেষজ্ঞ ইরাবতম মহাদেবন- এর মতে পাত্রটির গায়ে উৎকীর্ণ লিপিটি খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকের প্রাচীন তামিল ব্রাহ্মী লিপি। প্রায় ৩০ বছর পূর্বে এই স্থানে পরিচালিত খনন কার্যে এরূপ আরও দুটি নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। উপরন্তু ১৯৯৫ সালে মিশরের লোহিত সাগরের তীরবর্তী রোমান উপনিবেশ বেরেনিক শহরেও এরূপ নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এই সমস্ত আবিষ্কার, এটিই প্রমাণ করে যে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে রোমান ঐতিহ্যের বিনিময় ঘটেছিল।
খবরটি আকর্ষণীয় ও ইতিহাস পাঠে নতুন করে উৎসাহী করে তোলে। প্রাচীন ভারতের সাথে বহির্বিশ্বের বিভিন্নভাবে যোগাযোগ ছিল এটা নতুন কোন তথ্য নয়। প্রত্নতাত্ত্বিক বা ইতিহাস সচেতন পাঠকমাত্রই একথা জানেন। আমার জানামতে এর আগে ইটালীর হারকিউলিয়াম ও পম্পেই নগরীতে প্রাপ্ত বিভিন্ন লাশ পরীক্ষা করে দেখা গেছে কারও কারও হাতে ভারতীয় দেবদেবীর প্রতিমা ছিল। বিশেষত পরিচিত একটি প্রতিমা হল লক্ষ্মী। একজন নারী যিনি ভিসুভিয়াসের ছাই ও লাভার নিচে চাপা পরে মারা গেছেন তার হাতে বুকে ধরা অবস্থায় একটি লক্ষ্মীর মূর্তি ছিল। তিনি লক্ষ্মীপূজা করতেন কি না তা নির্দিষ্ট করে জানা যায় নি। তবে ঐ লক্ষ্মীমূর্তিটি যে তার কাছে মূল্যবান ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই।






জুন 3, 2008 at 11:55 am
শুনলে গর্ব হয়
জুন 4, 2008 at 12:05 am
হ্যাঁ, তাতো বটেই। তবে এটা মোটেও কোন অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কারণ প্রাচীন কালে সিল্করোড দিয়ে ভারতবর্ষের সাথে সারা পৃথিবীর বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ছিল। এই সিল্করোড কখন কেন বন্ধ হয়ে গেল, তা ইতিহাস ঘাটলেই বুঝতে পারবেন। আলেকজান্ডারের আগমনের ফলে ইউরোপের সাথে ভারতের বৌদ্ধিকবিনিময়ের হার বেড়ে গিয়েছিল। এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। স্বদেশী বৌদ্ধদর্শন পরিপুষ্ট করেছে ইউরোপীয় চেতনাকে আবার ইউরোপীয় সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করেছে ভারতবর্ষকে। গান্ধার শিল্পরীতি তৈরি হয়েছে এই গ্রীক সাহচর্যেই। গান্ধার রীতির ভাস্কর্যের অসংখ্য উদাহরণ ভারতবর্ষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সহজ উদাহরণ হল বামিয়ানের ধ্বংসপ্রাপ্ত বৌদ্ধমূর্তি। ইসলামী তালেবানদের হাতে ধ্বংস হওয়া এই মূর্তিগুলো ছিল গান্ধার শিল্পরীতিতে তৈরি করা। ইউরোপের পরবর্তী যুগের মানবতাবাদী দর্শনের উদ্ভব ঘটে বৌদ্ধদর্শনের প্রভাবে। যার রেশ কার্লস মার্ক্সের রচনাতেও রয়েছে।