সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিকিৎসা

রাজধানীর হাসপাতালপাড়া বলে বিখ্যাত এলাকা হল শেরে বাংলা নগর। এখানে একই জায়গায় ৭টি জাতীয় ইনস্টিটিউট এবং হাসপাতাল রয়েছে। এখানে রয়েছে জাতীয় হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় কিডনি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, জাতীয় মানসিক রোগ নিরাময় ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থপেডিক্স পুনর্বাসন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান এবং ঢাকা শিশু হাসপাতাল। অন্যান্য হাসপাতালগুলো বিশেষায়িত হাসপাতার হলেও একমাত্র শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার প্রায় সবগুলোই দেয়া হয়।পাকিস্তান আমলে ৭৫টি বিছানা নিয়ে হাসপাতালটি শুরু হয়। ১০/১৫ বৎসর আগে ৩০০টি বিছানা নতুন করে যোগ করা হয়।
এই প্রখ্যাত হাসপাতালের একটি তথ্য আজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। এখানে একটি বিশেষ প্রথা রয়েছে যা অন্য হাসপাতালগুলোতে সম্ভবত নেই। ঢাকার শেরেবাংলা নগর, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডিসহ আশপাশের বিস্তৃত এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু বিশেষ প্রথাটির কারণে বিপন্ন রোগীরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এখানে প্রত্যেক ডাক্তারের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি বিছানা রয়েছে। সম্মানিত চিকিৎসকগণ তাঁর জন্য নির্দিষ্ট বিছানা ছাড়া অন্য রোগীর চিকিৎসা করেন না। কোন অতিরিক্ত রোগী এলেও তাকে ভর্তি করান না। অন্যান্য হাসপাতালে বিছানার অতিরিক্ত রোগী এলে তাকে ভর্তি করিয়ে ফ্লোরে রেখে হলেও চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু এখানে অতিরিক্ত রোগীকে ভর্তি না করিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ফলে ছুরিকাঘাতপ্রাপ্ত বা কেটে যাওয়া কোন রোগী পথিমধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনেক সময় মৃত্যুর মুখে পতিত হয়।
আমি খবরটা জেনে খুব দু:খ পেলাম। এটা কি সম্ভব? একজন ডাক্তার কি সত্যিই এমন বিবেকহীন কাজ করতে পারেন? তিনি কিভাবে একজন আহত রোগীর কাতরতাকে উপেক্ষা করতে পারেন? কি নীতিগত শিক্ষা তিনি পেয়েছেন যে এমন অমানবিক আচরণ তিনি অনায়াসে করতে পারেন?

Leave a Reply