ওয়ার্ডপ্রেসের কোন সমস্যা হয়ত হয়েছে। লোড হতে অনেক সময় নিচ্ছে। এই পোস্টটি দিতে প্রায় ১৫ মিনিট লেগে গেল।
দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে দেশজুড়ে আলোড়ন উঠে গেছে। মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। খাদ্যাভাসে পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু সফলতার পরিমাণ ততটা আশাব্যঞ্জক নয়। অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু তার গতি এখনও সাবলীল নয়। মানুষের আয় কমে গেছে বলে এমন হচ্ছে তা কিন্তু নয়। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, সেই সাথে তুলনামূলকভাবে মানুষের আয়ও বেড়ে গেছে। রিক্সাওয়ালা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে, ব্যবসায়ীরা পণ্যের উপর বেশি লাভ করছে, শ্রমজীবিরাও তাদের শ্রম বিক্রি করছে অপেক্ষাকৃত বেশি দরে। তাহলে সমস্যাটা কার? দ্রব্যমূল্য বাড়লেও তো সেই অনুযায়ী অনেকের আয় বেড়ে গেছে। নিত্য ব্যবহার্য পণ্য কিনতে তো মানুষের অসুবিধা হবার কথা নয়।
আসলে সমস্যা হয়েছে চাকুরিজীবিদের। যাদের মাসিক আয় বাড়ে নি তাদের। চাকুরীজীবিরা মাস শেষে নির্দিষ্ট অংকের বেতন পান। সেই নির্দিষ্ট আয়ে তাদের মাসের সম্পূর্ণ খরচ নির্বাহ করতে হয়। কিছু কিছু চাকুরিজীবির বেতন হয়ত অনেক বেশি। সমকালীন সমস্যায় তাদের তেমন ভুগতে হচ্ছে না। কিন্তু প্রতিদিন আশঙ্কায় মোড়ানো জীবন কাটাচ্ছে সাধারণ চাকুরেরা। আগামীকাল কেমন করে চলবে সেটা এতদিন ভাবত দেশের প্রান্তিক দরিদ্র জনগণ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সে ভাবনার ভার এখন তথাকথিত মধ্যবিত্তদের ঘাড়েও পড়েছে। একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে এই ব্যাখ্যাটি তথা মধ্যবিত্ত নামকরণটি ভুল হয়ে গেল। কারণ এখন মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক মধ্যবিত্তদের বাড়ি বানানোর জন্য ঋণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এখানে মধ্যবিত্ত বলতে তাদেরকেই বুঝিয়েছে যাদের মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা। পূর্বে এই অংকটি ৩০ হাজার ছিল। কিন্তু এ বৎসরে তা আরও ২০ হাজার বাড়িয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি এবং আমার বন্ধু-বান্ধব আত্মীয় স্বজনের কেউ মোটেও মধ্যবিত্ত নয়। তারা হয়তো খেটে খাওয়া জীবন যাপন করে না। তাদের কেউ কেউ হয়ত বড় চাকুরীও করে। কিন্তু পূর্বোক্ত সংজ্ঞানুযায়ী তারা সবাই নিম্নবিত্ত, দরিদ্র, অভাগা, ভুখা নাঙ্গা। তারা কেউই উপরিউক্ত ঋণ পাবার যোগ্য নয়।
গতকাল টিভিতে সংবাদের শেষের বাজার পরিক্রমাতে এক মহিলার বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন -’এখন দেশে দুই রকম শ্রেণী থাকবে, উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত’। তার কথাগুলো তীরের মত বুকে এসে বিঁধল। মাহবুব কামালের সংজ্ঞানুযায়ী নিজেকে মধ্যবিত্ত ভেবে এতদিন সান্তনা পেতাম। তাঁর মতে মধ্যবিত্তরা তারাই যাদের রয়েছে -”ঢিলেঢালা কল্পনা আর টানটান অর্থনীতি”। তাঁর নির্মোহ উচ্চারণ এতটাই বাস্তব যে দিনে দিনে আমি মানসিকভাবে নিজের কাছে নিজেই ছোট হয়ে যাচ্ছি। উচ্চ শিক্ষিতের তথাকথিত গর্ব ধুলিস্যাত হয়ে যাচ্ছে।
(আমি সরকারকে দোষ দিচ্ছি না। কারণ তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে বিশ্বাস করি।






জুন 1, 2008 at 7:41 pm
িঠক কথা.
জুন 3, 2008 at 11:53 am
ভারতেও একঈ সমস্যা। বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত বলতে যদি মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা বোঝায়, তা হলে খুব মুস্কিল, এখানে কিন্তু এমন নয়,মাসিক আয় ২০ হাজার টাকার লোককে ও লোন দেওয়া হয় ।
জুন 4, 2008 at 12:07 am
দেশভেদে সমস্যা ভিন্নরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে মূল সূত্র কিন্তু একই থাকে।