সেই সকাল ৭.৩০ এ জামাপ্যান্ট পড়েছিলাম। আর খুললাম সন্ধ্যা ৭.৩০ এ। অর্থাৎ ঠিকঠিক ১২ ঘন্টা পর। সারাদিন পরিশ্রম হল খুব। আজ কোন বৃষ্টি হয়নি। সকালে একগাল হাসি নিয়ে সূর্য উঠেছে। আকাশে তেমন মেঘ ছিল না। ছেঁড়া ছেঁড়া দু একটা মেঘ মাঝে মাঝে দেখা গেছে। তাও আবার সাদা মেঘ। তাই রোদের শক্তি ছিল খুব। অতএব সারাদিন ঘেমেছি প্রচুর। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকালীন সময় তো খুব সতর্ক থাকতে হয়। তাই ভিন্ন আচরণ করার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু দুপুরে যখন মিটিং হচ্ছিল তখন জুতো দুটো পা থেকে খুলে ফেলেছিলাম। মিটিং এর কারণে পা দুটোকে একটু বিশ্রাম দেবার সুযোগ পাওয়া গেল।
দুপুরের পর পরিচিত ছোট ভাই কাজল মজুমদার এর বাড়িতে গিয়েছিলাম। গতকাল ওর বিবাহ হয়েছে। জামালপুরের মেয়ে। পিতা হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। কাজলের মিসেস সমাজবিজ্ঞানে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিল। খুব শান্ত ও লাজুক মেয়ে। গায়ের রঙ চাপা। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ গল্প করে সময় কাটালাম।
বিকেলে আসার সময় পরিশ্রম আর বিরক্তির আরেক কাহিনী হল। এটা অবশ্য প্রাত্যাহিক জীবনেরই একটি অনুষঙ্গ। উলিপুর টু কুড়িগ্রাম লাইনের বাস যে কতটা নিম্নমানের তা নিয়মিত ভ্রমণকারীমাত্রই জানেন। রংপুরে বাড়ি এমন এক কলিগের মতে এই এলাকাটা বাংলাদেশের বাইরে তাই বাসের নিয়মকানুন এরকম। তার মন্তব্য হাস্যরসাত্মক হলেও ভাবার্থ বোঝা যায় সহজে। আসলেই দেশের অন্যান্য জায়গার বাস সার্ভিস মোটামুটি উন্নতমানের। কিন্তু এই লাইনের বাস চলে সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মহীন নিয়ম মেনে। এর অর্থ কোনদিন যে কোন নিয়ম চালু হবে আর তারা (বাস মালিক বা ড্রাইভার) কোনদিন যে কোন নিয়ম মানবে তা আগাম বলা কোনক্রমেই সম্ভব নয়। ১৮ কি.মি. রাস্তা যেতে বাস স্ট্যান্ড থেকে লাগায় ১ ঘন্টা। লোকাল বাস ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আমরা যারা বাসে যাতায়াত করি তাদের জন্য এই ভোগান্তি ছাড়া আর কিই বা থাকতে পারে। আজকের অবস্থাটাও নতুন কিছু নয়। এরকম মাঝে মাঝেই হয়। বাসে সিট পাওয়া যায় নি। প্রচণ্ড ভীড়। জনৈক পুলিশ অফিসার নাকি বাস চালকদেরকে বলে দিয়েছেন, বাসের ভিতর যত পারো নাও কিন্তু ছাদে যেন কোন যাত্রী না ওঠে। এই অমূল্য বাণী যথাযথভাবে তারা পালন করে। আজ বাস ভর্তি ছিল ঢাকাযাত্রী নিরন্ন অভাবী মানুষ দিয়ে। তারা অন্য জেলায় কাজের সন্ধানে যাচ্ছে। আর ছিল কিছু হুজুর টাইপের মোল্লা। এদের সাথে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ঘামে মাখামাখি করে দাঁড়িয়ে এলাম। এই ভীড়ের মধ্যে হুজুররা ধর্মীয় সবক দিচ্ছিলেন। দেশের মানুষ গুনাগার হয়ে যাচ্ছে, বিজ্ঞানের কারণে যাবতীয় সমস্যা ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মাঝে একজন আবার মোবাইল ফোনে গান শুনছিল। কবি হলে হয়তো এই উদ্ভট পরিবেশ নিয়ে কোন একটা কবিতা লিখে ফেলতাম। কিন্তু সেই মেধা আমার নেই। তাই কি আর করা। চুপচাপ সহ্য করা ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। নামার পর দেখলাম, একভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাটুর সংযোগস্থলে ব্যথা করছে। বাসা পর্যন্ত আবার হেটে আসি বা আসতে চাই। অল্প একটু রাস্তা তাতে রিক্সা ভাড়া ৪ টাকা, কেউ কেউ আবার ৫ টাকার কম নেয় না। তাই হাঁটার অভ্যাস করছি। আজকে হাঁটুর ব্যথার চোটে হাঁটতেই পারছিলাম না। কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাড়ি এলাম। ঘড়িতে তখন দেখি সন্ধ্যা ৭.২৫ বাজে। শরীর মন ক্লান্তি আর অবসাদে ভেঙে পড়তে চাচ্ছিল। বাইরে কাজ ছিল। একজনের সাথে লাইব্রেরিতে যাওয়ার এপয়েন্টমেন্ট ছিল। কিন্তু আর বের হতে ইচ্ছা করছিল না।





