আকাশ আজ সারাদিন মেঘলা ছিল। আর ছিল ভ্যাপসা গরম। মাঝে মাঝে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়েছে। ইংরেজিতে একে বোধহয় Shower(?) বলে। গত পরশুদিন আষাঢ়স্য প্রথম দিবস গেছে। ঢাকাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে, প্রধানত: বর্ষার গান গেয়ে বর্ষাঋতুকে বরণ করে নেয়া হয়েছে। টিভি তেমন দেখা হয় না বলে ঘটনাটা খেয়াল করিনি। গতকালকে পত্রিকা পড়াও হয় নি। আজকে গতকালকের পত্রিকা পড়তে গিয়ে বিষয়টা চোখে পড়ল। নিজের মনেই খানিকক্ষণ হাসলাম। কী জীবন আমার! কাজের চাপে উদভ্রান্তের মত উর্ধ্বশ্বাসে উন্মুখ হয়ে শুধু ছুটে চলছি। চারপাশে চোখ মেলে তাকাবার কোন অবকাশ নেই। তাই জানিও না কোনদিক দিয়ে অফিসিয়ালি বর্ষাকাল শুরু হয়ে গেল।
বর্ষাকাল বাঙালি নারী-পুরুষের জীবনে একটি অন্যরকম অনুরণন তোলে। বাঙালিমাত্রই এই ঋতুতে কাব্যরোগে ভোগে। – এ ধরণের বাক্যাবলি একালে অচল হয়ে গেছে। এখন যুগ হয়েছে দ্রুতগামী। বর্ষাকালের সৌন্দর্য দেখার সময় আর কারও নেই। গন্তব্যের বন্ধুর পথ অতিক্রম করাই আমাদের কাছে এত দুরূহ যে, জীবনের অবকাশে আকাশের রঙ, মেঘের ঢঙ দেখার মানসিকতা নষ্ট হয়ে গেছে। সারাদিনের ক্লান্তির পর বর্ষার ব্যঞ্জনা অনুভব করার শক্তি থাকে না। সম্ভবত সে কারণে আমার খেয়াল ছিল না বর্ষাকালের সূচনালগ্নকে। জানালা দিয়ে বর্ষার ফল চালতার ফুলের উদগম যে চোখে পড়েনি তা নয়। রাস্তার ধারে অবশ্য এখনও কোন কদম ফুল চোখে পড়েনি। তাই হয়ত তেমন সচেতন ছিলাম না।
আজকের দিনটার একটা বিশেষত্ব উল্লেখ না করলে এই লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মিশরের পর্যটন কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে যে বিজ্ঞাপন দেখায় তাতে তারা বিশ্ববাসীকে বলে যে তাদের প্রধান সৌন্দর্য হল “সূর্য”। ঠিক তেমন সমুদ্রতীরবর্তী জায়গার একটি অন্যতম উপভোগ্য ভৌগলিক/ প্রাকৃতিক উপাদান বা সৌন্দর্য হল “বাতাস”। যারা উচু বিল্ডিং এ বাস করেন, তারাও অবশ্য প্রকৃতির কাছ থেকে অকৃপণভাবে বাতাস উপহার হিসেবে পেয়ে থাকেন। আমরা যারা ভূমিজ জীবন যাপন করি, তারা উপর্যুক্তদের মতো বাতাসের সাবলীল স্পর্শ ততোটা পাই না। এটা প্রকৃতি ভালভাবে জানে। তাই বোধহয় মাঝে মধ্যেই আমাদের মত হাভাতের জন্য কিছুটা বাতাসের উন্মাদনা সৃষ্টি করে দেন। হ্যাঁ! আজকে আকাশ সারাদিন মেঘলা ছিল, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল, আর সাথে ছিল বাতাস। মৃদুমন্দ নয়। রীতিমতো সমুদ্রতীরবর্তী এলাকার মতো, কিংবা ১০-১২ তলার উপরের বাতাসের মতো বেগে ধাওয়া বাতাস সারাদিন বয়ে গেছে। সন্ধ্যার পরও বাতাসের চঞ্চলতা সক্রিয় ছিল। বর্ষাকাল এখন আর আমাদের মনে কাব্য সৃষ্টি করে না, বরং কখনও কখনও প্রচণ্ড বিরক্তি সৃষ্টি করে। আমিও নিজেকে এই বিরক্ত- কাব্যবোধহীন- নীরস মানুষদের দলভুক্ত বলে মনে করি। কিন্তু আজকের বাতাস আমি উপভোগ করেছি। শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া বাতাস আশরীর অনুভব করেছি। আমার সত্যিই বাতাসের এমন মাতলামো ভাল লেগেছে।





