কুড়িগ্রামে খাওয়ার অযোগ্য চাল বিতরণ

সৌদী আরবের দেয়া চাল কুড়িগ্রামের দরিদ্র মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্যাকেট খুলে দেখা গেছে সেই চাল পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত। পরবর্তীতে সেই চাল ফেরত দেয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। বিডিনিউজ ২৪ এর এই খবরটা দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। খবরটা বিডিনিউজ ২৪ এর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকারপূর্বক সম্পূর্ণ তুলে দিলাম। বিডিনিউজ ২৪ এর লিংক

কুড়িগ্রামে খাওয়ার অযোগ্য চাল বিতরণ, পরে ফেরত দিতে মাইকিং

কুড়িগ্রাম, জুন ২২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ডধারীদের মাঝে খাওয়ার অযোগ্য পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার দুপুর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের উদ্যোগে চাল ফেরত দেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়।

উলিপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আল ওয়াদুদ খাওয়ার অযোগ্য চাল বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শুক্রবার ও শনিবার গুনাইগাছ ইউনিয়নে তিন হাজার কার্ডধারীর জন্য ১৫ কেজি ওজনের তিন হাজার প্যাকেট আতপ চাল আসে। রোববার এ চাল বিতরণের সময় ৪২ প্যাকেট চাল পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় আলাদা করে রাখা হয়। বাকী চাল বিতরণ করা হয়।

দুপুর নাগাদ প্রায় আড়াই হাজার কার্ডের অনুকুলে ১৫ কেজি ওজনের এক প্যাকেট করে চাল দেওয়া হয়। প্যকেটের গায়ে আরবী, ইংরেজী ও বাংলায় লেখা ছিল ‘মানবতার দেশ সৌদি আরব’।

তিনি জানান, কার্ডধারীরা প্যাকেট ভর্তি বস্তা খোলার পর স্যাঁতস্যাঁতে দুর্গন্ধযুক্ত চাল দেখে তা নিতে আপত্তি জানায়। বিষয়টি উলিপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর পর তিনি চাল বিতরণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।

গুনাইগাছ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, “শনি ও রোববার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে প্যাকেটজাত চাল পাঠানো হয়। বিতরণের সময় পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত চাল পাওয়ায় ৪২ প্যাকেট চাল আলাদ করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

বিতরণ বন্ধ রেখে খাওয়ার অনুপযোগী চাল ফেরত দেওয়ার জন্য মাইকিং-এর কথা তিনি স্বীকার করে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ২৪ জন চাল ফেরত দিয়েছে।

উলিপুরের ইউএনও মো. আব্দুর রফিক বলেন, গুনাইগাছ ইউপি চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বিষয়টি জানালে তিনি বিতরণ বন্ধ ও চাল ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হবে।

সরেজমিন গুনাইগাছ ইউনিয়নের সন্তোষ অভিরাম গ্রামের বাঁধের পারে গিয়ে দেখা গেছে, মরিচ মতি (৫৫), গোলাপী (৪৫), রমিচা বেগম (৪০) নাক চেপে ধরে রাস্তায় চাল শুকিয়ে সেগুলো খাওয়ার উপযোগী করার চেষ্টা করছেন।

তারা বলেন, এ চাল খাওয়া যায় না। এগুলো খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। কিন্তু গরিব মানুষ বলে এ চাল না নিয়ে তাদের উপায় ছিল না। এখন খাওয়ার উপযোগী করার চেষ্টায় তারা চালগুলো শুকাচ্ছেন।

গুনাইগাছ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আখলাকুল ইসলাম বলেন, “প্যাকেটের ভিতর পচা চাল ছিল আমরা বুঝতে পারি নাই।”

জেলার ভারপ্রাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাল বিতরণ বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

One Response to “কুড়িগ্রামে খাওয়ার অযোগ্য চাল বিতরণ”

  1. ashok lahiri Says:

    প্রিয় সম্পাদক,
    নতুন লেখা দেখছি না।এটি ফনেটিক ভাবে লিখলাম-তারাতারি হয়।অভ্র মাঊশ কোএক্টী ক্ষেত্রে ব্যবহার কোড়তে হয়েছে।


Leave a Reply