আজ আমাদের রেড লেটার ডে

আজ আমাদের রেড লেটার ডে।

আজ আমাদের গর্বের দিন। আমাদের বিজয়ের দিন। আমাদের উল্লাসের দিন। আমাদের আনন্দের দিন।

আমরা গত ২ মাসেরও অধিক দিন থেকে যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছিলাম, আজ তা থেকে মুক্ত হলাম।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের চোখে আঁধার নেমে এসেছিল। আজ আমাদের বাঁধন টুটে গেল। আজ ২৭ এপ্রিল তারিখটি আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমার শ্বশুড় এর উপর যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল, আজ আদালতের মাধ্যমে তা থেকে তিনি মুক্ত হলেন। তাকে ফাঁসানোর জন্য নানারকম ফন্দি বের করা হয়েছিল। কিন্তু কোনটাই প্রমাণ করা যায় নি। তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

কালি ও কলমের শুভেচ্ছা কার্ড

মাসিক কালি ও কলম পত্রিকার পক্ষ থেকে প্রত্যেক গ্রাহককে একটি বৈশাখের শুভেচ্ছা কার্ড পাঠানো হয়েছে। আকর্ষণীয় এই কার্ডটির ডিজাইন করেছেন আকরাম হোসেন। গ্রাহক হিসেবে আমিও একটি কার্ড আজকে পেলাম।

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানার একটি চিত্র এই কার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। চিত্রটির নাম পাখা।

কালি ও কলমের শুেচ্ছা কার্ড

কার্ডের শেষে রোকেয়া সুলতানা সম্পর্কে কিছু বিবরণ পাওয়া গেল। আশির দশকে তিনি ‘ম্যাডোনা’ সিরিজ একে চারদিকে সাড়া পেলে দিয়েছিলেন। টেম্পোরা ও তাম্রক্ষণ মাধ্যমে তিনি সিদ্ধহস্ত। নিচে তার চুম্বক অংশ উদ্ধৃত করলাম।

আশির দশকে করা রোকেয়া সুলতানার ম্যাডোনা সিরিজ শিল্পিত ব্যঞ্জনায় ব্যতিক্রম সৃষ্টি। তিনি নারীর সত্তা-সংকট, দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম ও নারীর বেদনাকে পরম মমতায় রূপায়িত করেছেন। পরে তিনি টেম্পারায় নিসর্গের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ও সত্যকে সন্ধান করেছেন। তিনি জল, বায়ু, মাটি সিরিজে বেশ কিছু কাজ করেন। এই সিরিজেরই একটি কাজ এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে পুরস্কৃত হয়।

পরবর্তী পর্যায়ে রোকেয়া সুলতানাকে আমরা মানব-মানবীর অন্তর্নিহিত সম্পর্ক নিয়ে কাজে নিমগ্ন হতে দেখেছি। প্রথাবিরোধী এইসকল সৃষ্টিতে তিনি নারীর কামনা, বাসনা, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও যৌনতাকে অবলম্বন করে উল্লেখযোগ্য চিত্র সৃষ্টি করেছেন। এই সৃজনধারায় তিনি নারীমুক্তির অভিযাত্রাকে বাধামুক্ত করার প্রয়াসী হয়েছিলেন।

রোকেয়া সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮০ সালে বিএফএ এবং বিশ্বভারতী থেকে ১৯৮৩ সালে এমএফএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর জন্ম ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রামে। কর্মজীবনে তিনি চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক।

মাধাইখালের কালীপূজা

মন্দিরের মূল গেট

কুড়িগ্রাম জেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মাধাইখাল এলাকার কালীপূজা বহু দিন আগে থেকে হয়। দেশের দুর-দুরান্ত থেকে মানুষ পূজায় মানত নিয়ে আসে। আমার মিসেসের একটা মানত ছিল। মাসহ আমরা গিয়েছিলাম। কালীপূজা আমার কাছে ভাল লাগে। একেবারে নিজস্ব ধর্ম বলে মনে হয়। কালো ত্বক, নগ্ন অবয়ব, উন্মত্ত ভঙ্গি বাঙালি নারীর আরেক রূপচ্ছবি। এই লোকজ সংস্কৃতি আমাদের একেবারে নিজস্ব। যারা দেশপ্রেমিক বিশ্বাসীমাত্রই তা জানেন। আমরা সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ভাষা, সিনেমা, পোষাক, প্রযুক্তি ইত্যাদির বিরোধীতা করি। বরং বিরোধীতা না করাটাই পশ্চাৎপদতা, পরনির্ভরশীলতা, পরমুখাপেক্ষী, নতজানু নীতি, দাসখত ইত্যাদি বলে মনে করি। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ধর্ম সম্পর্কে কিছু বলি না। সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতি, অর্থনীতি যেমন স্বদেশী সংস্কৃতি, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে বিদেশী ধর্ম তেমনি তার সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকা নিপূণ ও যথাযথভাবে কার্যকরী করার চেষ্টা করে।

কালীমাকে মানুষ ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে, ভয় করে। তাকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে। গত মঙ্গলবার কালীপূজা শুরু হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। আজকে এবং আগামী মঙ্গলবার শুধু এই দুইদিন বলি হবে। আজ ভীড় কম হবে, তাই আমরা গিয়েছিলাম। যারা নিয়মিত যাতায়াত করে তারা বলছিল আগামী মঙ্গলবার এর চারগুণ বেশি পূণ্যার্থী আসবে। দোকানপাটের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আমরাও আসার সময় কয়েকটা দোকান অর্ধসমাপ্ত দেখেছিলাম।

সেনাপ্রধানের কৃতিত্ব

আজকের পত্রিকায় সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের একটি দারুণ সাফল্যের খবর এসেছে। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল।

সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের উদ্যোগে বেঁচে গেলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা। গতকালকের পত্রিকায় এ সম্পর্কিত একটি খবর প্রকাশ হলে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ফাঁসি মওকুফের আবেদনটি বিবেচনা করেন এবং তাতে সায় দেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব :) সিআর দত্ত বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধা রাখালচন্দ্র নাহার প্রাণভিক্ষা করে রাষ্ট্রপতি বরাবরে আবেদন করেছিলেন। কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীও রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রাণভিক্ষার আবেদন জানান। সেনাপ্রধানের বিশেষ উদ্যোগেই রাখালচন্দ্র নাহার প্রাণ বেঁচে গেল। ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠন এ কারণে সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

খবরে প্রকাশ ১৯৯৯ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বেগমাবাদ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাখালচন্দ্র নাহার আত্মীয় জ্যাঠাতো বোনের জামাই শ্রী দীনেশচন্দ্র দত্ত তার লোকজন নিয়ে রাখালচন্দ্র নাহার বাড়িতে হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নিজেদের লোকদের লাঠির আঘাতে দীনেশ দত্ত মারাত্মক আহত হয় এবং পরে হাসপাতালে মারা যায়। এই ঘটনাতে রাখালচন্দ্র নাহার কোন হাত ছিল না। ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ তাকে ফাসির আদেশ প্রদান করেন। হাইকোর্টে আপীল করলে ২০০৪ সালের ৯ নভেম্বর তারিখে তা খারিজ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে মূল ঘটনার পর ১১ বছর পেরিয়ে গেছে। আজকে রাষ্ট্রপতির তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ফাসির আদেশটা স্থগিত করে দেন। রাখালচন্দ্র নাহার সন্তানেরা তার ১১ বছর জেল খাটার বিষয়টি বিবেচনায় এনে তাকে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ তাঁর আজকের এই কৃতিত্বের জন্য আমাদের মত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কাছ থেকে হাজার সালাম প্রাপ্য হয়ে গেলেন। তিনি বলেন -একজন মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রাখালচন্দ্র নাহাকে ফাসি দেয়া হবে সংবাদটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করলাম, হয়ত সে অন্যায় করেছেন। বিচারক তাই ঠিকই বিচার করেছেন। তবুও সে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তার প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো কর্তব্য।…. এটা আমাদের বিরাট প্রাপ্য যে রাখালচন্দ্র নাহা একজন বীর মক্তিযোদ্ধা। তিনি দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে শত্রুর সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। ….আমাদের সকলেরই দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। তারা মুক্তিযুদ্ধ করে তাদের জীবন দিয়েছেন আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, আমরা যদি তাঁদের দিকে না তাকাই, সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে দেই, তাহলে এটা বড়ই অন্যায় কাজ হবে।…. পত্রিকায় পড়েছি মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন জায়গায় না খেয়ে আছেন। আমরা এসব খবরের প্রতি দৃষ্টি দেব এবং দেশবাসীকে বলব তাদের প্রতি আমরা যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই।

সত্যিই তাই, আজ যেখানে রাজাকার আলবদররা বুক ফুলে রাস্তায় হেটে বেড়াচ্ছে। সেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা ফাসিতে মারা যাচ্ছিলেন এটা ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়। সেনাপ্রধান আমাদের মনকে আনন্দে পূর্ণ করেছেন এজন্য তাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ওয়ার্ডপ্রেসের নতুন ড্যাশবোর্ড

ওয়ার্ডপ্রেশ

ওয়ার্ডপ্রেসের নতুন ড্যাশবোর্ড আজকে থেকে চালু হয়েছে। ব্লগের যারা দর্শক তারা এটা দেখবেনা। শুধুমাত্র ব্লগ এর মূল এডমিনিস্ট্রেটর এই বোর্ড দেখতে পারবে। আজকে থেকে যেটা চালু হয়েছে সেটা দেখতে সুন্দর, কিন্তু কাজে কেমন তা কয়েকদিন না গেলে বোঝা যাবে না। প্রথম দেখায় তাৎক্ষণিকভাবে একটু চমকে গিয়েছিলাম। ম্যাট এর ঘোষণা ও অন্যদের আলোচনা পড়লাম। তারপর আবার ড্যাশবোর্ডে লগইন করলাম। বেশ কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে দেখলাম। কিছু সময় পড়ে ভাল লাগতে শুরু করেছে। যদিও এখনও সব কিছু বুঝতে পারিনি।

ওয়ার্ডপ্রেসের এই কিছু কিছু বিষয় ভালো লাগে। এর আগে ডিসেম্বরের শেষে ও জানুয়ারির প্রথমার্ধে অল্প কয়েকদিনের জন্য তুষার পরার ইফেক্ট যোগ করা হয়েছিল। বিশ্বের শীতপ্রবণ দেশগুলোতে শীতকালে আবহাওয়া এত ঠাণ্ডা হয়ে যায় যে সেখানে বরফ পরে। বরফ পরার পূর্বে তুষার পরা শুরু করে। দৃশ্যটা সত্যিই মনোহর ও আকর্ষণীয়। (বাংলাদেশের বর্ষাকাল অবশ্য তার চেয়েও বেশি সুন্দর)। ওয়ার্ডপ্রেসের ওই ইফেক্টটা আমার ভাল লেগেছিল। এ বিষেয়ে একটা পোস্ট এই ব্লগে দিয়েছিলাম। সেটা পড়া যাবে এখানে

এপ্রিল ফুল

af2.jpg

আজকে এপ্রিল ফুল। এপ্রিল মাসের ১ তারিখ। এই দিনটি অন্যকে বোকা বানাবার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। এটা শুধুমাত্র নিষ্কলুষ মজা পাবার জন্যই করা হয়। কাউকে আঘাত দেয়া বা কাউকে ছোট করা এপ্রিল ফুলের উদ্দেশ্য নয়। অবশ্য অনেকে এর মধ্যে রাজনীতি খোঁজে। বিশেষত: একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীরা এই মনোভঙ্গী পোষণ করে থাকে। এটা আমার কাছে হাস্যকর বা ইচ্ছাকৃত উস্কানীমূলক আচরণ বলে মনে হয়। কারণ অন্যধর্মের প্রতি তারা ইতিহাসে যত জঘন্য আচরণ করেছে, ইতিহাসে তার যত উদাহরণ আছে সেগুলোকে যদি কোনরকম কাজে অজুহাত বলে ধরার চেষ্টা করা হয়। তাহলে তাদের মানুষ হিসেবে কোন অবস্থানই থাকেনা। তারা পরধর্মের প্রতি ইতিহাসে বিভিন্ন বাঁকে যত অমানবিক ও নৃশংস আচরণ করেছে তার তালিকা দেয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু যদি কোন ধর্মীয় রাজনৈতিক পরাজয়ের কারণে কোন অনুষ্ঠান পালনে বিরোধীতা করা হয় এবং সেই অনুষ্ঠানকে উদ্দেশ্য করে আজেবাজে মন্তব্য করা হয় তাহলে তা হয় খুবই দু:খজনক।
যা হোক আজকের এপ্রিল ফুল সকলকে নির্মল আনন্দ দিক। কেউ যেন কারও সাথে ইচ্ছাকৃত বা উস্কানীমূলক বা বিদ্বেষপ্রবণ হয়ে কাউকে বোকা না বানায় সেই প্রত্যাশা করছি।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আজ আমার বাবা সুনীল চন্দ্র বর্মন সহ আরও ৪ (চার) জনকে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জেলা প্রশাসন সম্মাননা প্রদান করেছে। একটি ক্রেস্ট, একটি সার্টিফিকেট ও ৫০০ টাকার প্রাইজবন্ড দিয়ে তাদেরকে স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে সম্মান প্রদর্শন করেছে। আমার কাছে বিষয়টি বিশাল গর্ব ও আনন্দের।

 মুক্তিযোদ্ধা সংসদ

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে জাতীর গর্ব বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধারা প্রথমে মার্চপাস্ট করে আজকের অনুস্ঠানের শুভ সূচনা করে।

 বাবার হাতে ক্রেস্ট

বাবার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়া হচ্ছে।

 বাবার হাতে ক্রেস্ট

বাবা ডিসি মহোদয় এর সাথে হাত মেলাচ্ছেন।

 হাস্যেজ্জ্বল বাবা

একটি হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্ত। বাবার সাথে আছে ডিসি মহোদয়, পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এবং আরও তিনজন সম্মাননাপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা।

সকলে

সকলে একসাথে ফটোসেশনে দাড়িয়েছেন।