খাদ্য হিসেবে আলু

সম্প্রতি খাদ্য হিসেবে আলু গ্রহণ করা নিয়ে বেশ বিতর্ক জমে উঠেছে। আমার কাছে বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। কারণ আলু একটি পুষ্টিকর খাবার। হয়তো অসময়ে বলা হয়েছে; কিন্তু তার মানে এই নয় যে কথাটি অগ্রহণযোগ্য। আমার যতদূর মনে পড়ে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেবের সময়ে আলুকে খাবার হিসেবে জনপ্রিয় করার বেশ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তখন বারবার প্রচার করা হত- “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”। কিন্তু আলুকে তখন সরকারি প্রত্যাশামতো প্রচলিত করা যায়নি। এবার সারা পৃথিবীতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সুযোগে আলু’র উপর নির্ভরতা যদি একটু বাড়ানো যায় তাহলে খুব ভাল হয়।

আমরা যে নতুন কিছু গ্রহণ করি না তা নয়। আমরা পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে মোবাইল ফোন, ভিসিডি ইত্যাদি গ্রহণ করেছি। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মোবাইল ফোন এবং সেই সম্পর্কিত বিনোদন চলে গেছে। তরুণদের রাত জাগার অভ্যাস বাড়ছে। আবার চিঠি লেখার মত ভাল অভ্যাস ত্যাগ করা হয়ে গেছে।

খাবার বিষয়েও আমরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই তো তিন-চার বছর আগে হাইব্রিড চালের ভাত খেতে চাইতাম না। রাবারের মত স্বাদ বা ঝরঝরে হয় না ইত্যাদি অজুহাত তুলতাম। কিন্তু এখন আর সেসব কথা কেউ ভাবে না। ব্রিগেড মাছ খেতেও এক সময় আমরা অনিচ্ছুক ছিলাম। কিন্তু এখন ব্রিগেড ছাড়া পাতে মাছ ওঠেনা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই পরিবর্তিত বৈশ্বিক অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও বেশি করে আলু খাবার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পুরনো শ্লোগান আবার উচ্চারণ করি “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”

আমাদের সংস্কৃতিতে আলু একটি অন্যতম উপাদান হোক, সরকারি এই প্রত্যাশার সাথে আমি একমত পোষণ করি।

১লা বৈশাখের ভাবনা

১লা বৈশাখ যথারীতি এল এবং গেল।

আমি সাধারণত বিশেষ কোন আবেগ অনুভব করি না। এর একাধিক কারণ আছে। ইদানীং ১লা বৈশাখ নিয়ে যে মাতামাতি শুরু হয়েছে তাকে আমার সাময়িক বলেই মনে হয়। ১৫-২০ বছর আগে নববর্ষ আমরা নিজেদের বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশে পালন করতাম। এখনও করি।

যথারীতি চৈত্র সংক্রান্তির দিন নিরামিষ আর ১লা বৈশাখে মাছ বা মাংস রান্না হত/ হয়। ইলিশ পান্তার ভন্ডামী কখনো বাসায় ছিল না। মনে পড়ে ৮৮-৮৯ এর দিকে যখন এইচএসসি পড়ি তখন একজন ক্লাশফ্রেন্ডকে নববর্ষের কার্ড দিয়েছিলাম। সে পরে অন্যদের কাছে আমাকে সাম্প্রদায়িক বলে মন্তব্য করেছিল। ইদানীং ঢাকায় ১লা বৈশাখ নিয়ে যে উল্লাস হয় তার আয়ুষ্কাল কতদিন? আমার ধারণা খুব বেশি হলে ৩৫-৪০ বৎসর। বাঙালি জাতি হিসেবে পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য হবে। কারণ এই মুহূর্তে বাঙালি বা বাংলাদেশীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মেধাবী মানুষের বড় অভাব। প্রধানত সাহিত্য একটা জাতির আদর্শ, নীতি, লক্ষ্য তৈরি করে দেয়। বিজ্ঞানীরা নানাকিছু আবিষ্কার করে জীবনযাপনকে সহজ করতে পারেন কিন্তু জাতীয়তাবোধ তৈরিতে তাদের ততটা অবদান নেই। তো সেই সাহিত্যাঙ্গনে বাংলার অবস্থান কোথায়? স্বাধীনতার পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি দেবার মত সাহিত্যিক আমাদের নেই। অনেকে ভারতের তুলনা দেন। কিন্তু আমি তা করতে চাইনা। সেখানে হিন্দী ভাষাভাষীদের তুলনায় বাঙালিদের মেধা বা কীর্তি ততোটা উল্লেখযোগ্য নয়। বুকার পুরস্কার বা এরকম আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাঙালি লেখকদের পদচারণা এখন দুর্লভ হয়ে পড়েছে। (তবে ভারতের বিষয় নিয়ে আমি ভাবিত নই) বাংলাদেশের কয়েকজন চিত্রশিল্পী এবং স্থাপত্যশিল্পী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানিত হন। কিন্তু সাহিত্যিক কত জন আছেন? নেই বললেই চলে। তাহলে সংস্কৃতির চালক কে হবেন? সাহিত্যিক নাকি মঞ্চশিল্পী, বিজ্ঞানী, কম্পিউটার/ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কে? মঞ্চশিল্পীরা কি নতুন কোন নৃত্যভঙ্গি বা সঙ্গীতশিল্পীরা কি নতুন কোন সঙ্গীতধারা বা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররা কি নতুন কোন অপারেটিং সিস্টেম (বা কম্পিউটার সম্পর্কিত কোন মৌলিক কিছু) বা সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা কি নতুন কোন আবাসন (বা তাদের বিষয়গত মৌলিক কিছু) বা বিজ্ঞানীরা কি নতুন কোন আবিষ্কার করতে পেরেছেন? আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত হয় এমন কিছুর জন্ম দিতে পেরেছেন? না পারেননি। তারা ইংরেজিভাষীদের (আমি পশ্চিমা শব্দটি ব্যবহারে আগ্রহী নই) আবিষ্কার- উদ্ভাবনকে হয়তো মডারেট করছেন। তাদের উদ্ভাবনের উপর নিজস্ব রঙ বা কোন ডিজাইন প্রতিস্থাপন করছেন। এটাকে কোন মৌলিক কাজ বলা যায় না।

সম্প্রতি চাল নিয়ে ভারতের সাথে যে সমস্যা এতে অনেকে ভারতকে দোষ দিচ্ছেন। কিন্তু আমি অন্যের দোষ খোঁজার আগে নিজের দোষটা খুঁজতে চাই। আমরা কি চাল উৎপাদনে সয়ংসম্পূর্ণ হতে পারতাম না? তাহলে আমরাই বরং ভারতের বিপদের দিনে চাল দিতাম না। ঘটনার নেতৃত্ব আমাদের হাতেই থাকত। জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে যদি এই সমস্যা হয়ে থাকে তাহলেও তো দোষটা আমাদের। মাছির মত বংশ বিস্তার করার দরকার কি ছিল? যে জাতি ভবিষ্যতের কথা ভাবতে পারে না তার তো ভবিষ্যত বলতে কিছু থাকে না।

বৈশাখী উৎসবে যে ধরণের আচরণ করা হয় তা কতটুকু বাঙালিসুলভ বা হিন্দুসুলভ? অনেকে ইসলামিস্টদের বক্তব্যে দোষ খোঁজেন, কিন্তু আমি নীতির প্রশ্নে ইসলামিস্টদের দোষ দেখি না। ইসলাম হচ্ছে একটি টোটাল জীবনব্যবস্থা (ওই মত অনুযায়ী)। এখানে চিন্তার স্বাধীনতা বা ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। মনে রাখতে হবে মুতাজিলাদের মতবাদ আমরা কেউই মেনে চলি না। বা তাদেরকে আমরা ভাল মানুষ বলেও স্মরণ করি না। মূর্তি নিয়ে প্রদক্ষিণ বা রঙ খেলা বা নাচানাচি এই বিষয়গুলো তো আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত। তাহলে যারা এসব করছে তারা কি ভুল করছে? হয়তো ভুল করছেনা। এর কারণ আসলে এটাই যে তারা জানেনা যে তারা ভুল করছে। কোন একটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতে হলে তাকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে, প্রাত্যাহিক জীবনে তার প্রভাব থাকতে হবে। না হলে তা অন্ত:সারশূন্য আস্ফালনে পরিণত হয়। এই বিষয়গুলো এমনই যে যদি তা অন্তরের অন্তস্থলে প্রোথিত আদর্শ বা নীতিবোধের সাথে না মেলে তাহলে তা এমনিতেই টিকে থাকে না। তাই আমার মনে হয় যারা ১লা বৈশাখকে নিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গি করছে তাদের নিজেদেরকেই নিজের মনে প্রশ্ন তুলতে হবে। এজন্য সংস্কৃতির স্বরূপকে চিনতে হবে। আজকে যে মাতামাতি তা অনেকাংশে ঢাকা এবং জেলা শহরকেন্দ্রিক। গ্রামে কি এর কোন প্রভাব আছে। মাত্র ২০% লোকের মনোভঙ্গি দিয়ে একটা দেশকে বোঝা যায় না। বাংলাদেশের আপামর জনগণ আবহমান কাল ধরে যে জীবন যাপন করছে তাই বাঙালিত্ব। এতে নাগরিক রূপ দেয়া হল রঙের প্রলেপ মাত্র (বাংলাদেশে আদতে সংজ্ঞানুযায়ী কোন নগর নেই। তার মানে নাগরিক বলতে আসলে কেউ নাই। ঢাকা মূলত একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম মাত্র)। তারা এমন দরিদ্র যে ইলিশ মাছ কেনার কথা তারা স্বপ্নেও ভাবে না। ১লা বৈশাখ তাদের বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখবার দিন। (নতুন জামাকাপড়? তাহলে ঈদে কি করবে?) সারাদিন কোন খারাপ কথা না বলার দিন। ঝগড়াঝাটি এড়িয়ে চলার দিন। নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণে (??) কোনদিন তাদের কোন যায় আসে নি, আজকেও আসে না। নতুন কোন সংস্কৃতিকে জাগরিত করার মত শক্তি কি আমাদের আছে?

দ্রব্যমূল্য

  • তীব্র রোদ কিন্তু তাপ কম এমন একটা দিন গেল আজ। রোদে চোখ ঝলসে যায়। কিন্তু অতোটা গরম লাগে না। বিকেলে আবার ঠাণ্ডা লাগা শুরু করেছে। হাফ হাতা শার্ট গায়ে দিয়ে বের হয়েছিলাম। সর্দি লেগে গেছে।
  • অফিসে দ্রব্যমূল্য নিয়ে ভীষণ বিতর্ক হল। আমি কোন মন্তব্য করিনি। শুধু শুনলাম। কলিগদের বিভিন্ন মন্তব্য নিম্নরূপ:-

১। চালের মূল্য এই মুহুর্তে ৩৫/= টাকা কেজি। এটা আমাদের অর্থনৈতিক ব্যর্থতাকে প্রতিনিয়ত ব্যঙ্গ করছে। দ্রব্যাদি কিনতে ব্যর্থতার লজ্জা বহন করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

২। মাসের আজ ৬ তারিখ। এখনই অনেকের পকেটে ২০০০/= টাকা নেই। বাকী মাসটা চলবে কি করে। গতমাসের ধার তো সম্পূর্ণ শোধ করা এ মাসেও গেলনা। এই জায়গায় আমি মন্তব্য করেছি। আমি বেতনটা হাতে পেয়েছি ২ তারিখে। আজ আমার পকেটে আছে ১১৪৮/= টাকা। কি অদ্ভূত জীবন আমাদের।

৩। বিচারকরা তাদের মূল বেতনের সমান মহার্ঘ ভাতা দাবী করেছে। অতএব অন্য ক্যাডারের যারা তারা কেন এমনটা পেতে পারেনা। ক্যাডারভুক্ত হিসেবে তারার সমান অধিকারের অংশীদার।

৪। বিচারকরা বিদেশের বিচারকদের উদাহরণ এনে তাদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি মূল বেতন সম্পূর্ণটাই মহার্ঘ হিসেবে দাবী করেছে। বিদেশে বিচারকদের বেতন বেশি এটা ঠিক, তাই বলে কি অন্যান্য চাকুরীজীবিদের বেতন কম?

আসলে দ্রব্যমূল্য আমাদের অসহায়ত্বকে প্রতিদিন এমনভাবে অপমান করছে যে তা বলার মত নয়। সবাই অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আজ আমার মিসেসকে পাড়ার অন্যান্য মহিলাদের সাথে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর প্রতিষ্ঠাষির্ষিকীতে পাঠালাম। যেতে চায়না, জোর করে পাঠিয়ে দিলাম। দুপুরের পরপর পাড়ার অন্যান্য মহিলাদের সাথে সে গেল। আর আমি সন্ধ্যার আগে আগে গিয়েছিলাম। সম্পাদক রওশন আরা আপা আমার পূর্বপরিচিত। নানারকম গল্প হল। অনুষ্ঠান দেখলাম। প্রথমে আলোচনা হয়ে গিয়েছে। আমি যখন গেছি, তখন গানবাজনাও শেষের পথে। একটা ছোট্ট মেয়ের নাচ দেখলাম। বেশ ভাল নাচতে পারে মেয়েটি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। বেগম সুফিয়া কামালের প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন এখন সারাদেশের মহিলাদের উন্নয়নে সক্রিয় ও ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। আজ এই সংগঠনের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হল। কুড়িগ্রাম জেলা শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

কিছুদিন আগে অর্থাৎ ৭ মার্চের নারী দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহিলা সংগঠনগুলোর প্রাণের দাবী সকল নারীর জন্য সমান অধিকার এর প্রতি বাংলাদেশ সরকার নীতিগতভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। এটা জাতিসংঘ প্রণীত সিডও সনদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশ সরকার সিডও সনদ আংশিকভাবে সমর্থন করে। কারণ ইসলাম অনুযায়ী সিডও সনদ কোনমতেই মেনে চলা সম্ভব নয়। তাহলে ইসলামের কিছু নিয়মকানুন বিতর্কিত হয়ে পড়তে পারে। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার নারীদের সমানাধিকারের দাবীকে নীতিগতভাবে সমর্থন করে মত প্রকাশ করেছে। কিন্তু ইসলাম ধর্মবিশ্বাসীরা এতে আপত্তি জানিয়েছে। তারা জরুরী অবস্থা ভঙ্গ করে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের রাস্তা ও তার আশেপাশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তাদের কথা হল ইসলাম অনুযায়ী এই আইন মানা চলবেনা। কারণ তা ইসলাম বিরোধী। ইসলামের কিছু নীতি এর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে। আর বিশ্বাসী কোন মুসলমান ইসলামের এই অপমান মেনে নিতে পারেনা।

বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বিশ্বাসীদের এই দাবীকে কোন মূল্য দিতে চায় না। তারা মনে করে কোন কিছুর অজুহাতে মহিলাদেরকে পুরুষদের থেকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই। তারা বিজ্ঞানমনস্ক মনোভঙ্গী থেকেই এমনটা মনে করে। তারা ইসলামের যে সম্পদ বন্টনরীতি রয়েছে তার কিছু ফাঁক তুলে ধরেছে। আমি পরবর্তীতে কোন এক সময় সেই হিসাবের শুভঙ্করী ফাঁকিটা আলোচনা করব।

আসলে দৃষ্টিকোণটাই বড় ঘটনা। আপনি কিভাবে একটি ঘটনাকে দেখছেন। কোন ভঙ্গিতে ঘটনাকে বিশ্লেষণ করছেন তার শিকড় বুঝতে পারলেই এই সমস্যাকে অনুধাবন করা কঠিন হবেনা। কে কোন দিক থেকে একটি ঘটনাকে ব্যাখ্যা করবে তা দেখে তার মনোভঙ্গিকে বা আদর্শের ভিত্তিটাকে বুঝে নেয়া মোটেই কঠিন কিছু নয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নিজস্ব ওয়েব সাইট রয়েছে। এড্রেস হল: http://www.mahilaparishad.org

স্বাধীনতার মাস‌

আজ ১ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মার্চ মাসে হিংস্র পাকিস্তানিরা শুরু করেছিল এক ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ। তারা বাংলাদেশের মাটি চেয়েছিল। এজন্য মানুষশূন্য করার এক পৈশাচিক খেলায় মেতে উঠেছিল তারা। এদেশীয় জামাত শিবির রাজাকাররা তাদের সে রক্তনেশায় সঙ্গী হয়েছিল। শুরু হয়েছিল এক অমর কাব্যগাঁথা যার নাম মুক্তিযুদ্ধ

ভয়াবহ বার্ড ফ্লু

ভয়াবহ বার্ড ফ্লু নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আছে কি নেই তা ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা। কারণ ইন্টারনেটে বেশ কিছু বাংলা ব্লগ ও সাইট আছে যারা বার্ড ফ্লু নিয়ে মোটেও আলোচনা করছেনা। তারা প্রযুক্তিপ্রেমিক হতে চায় কিন্তু যথার্থ বিজ্ঞানসচেতনতা বলতে যা বোঝায় তা হয়তো বোঝে কিনা তা নিযে আমার সন্দেহ আছে। যা হোক আমার স্বল্পজ্ঞানে বার্ড ফ্লু সম্পর্কে যা বুঝেছি ও জেনেছি তা নিম্নরূপ:

মনে করা হয় সাভারের ক্যান্টনমেন্ট পোলট্রি ফার্ম থেকে সারা বাংলাদেশে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছে। ফার্মটির পাশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে প্রত্যেক শীতকালে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি আসে। তারা বছরের প্রায় ছয়মাস এখানে থাকে। এদের কারও মাধ্যমে সম্ভবত বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বাংলাদেশে ছড়িয়েছে। সময়মতো যথাযথ সতর্কতা প্রদর্শন করা হয়নি বলে এই ফার্ম থেকে সারা বাংলাদেশে রোগের সংক্রমণ ঘটেছে। কারণ এই ফার্মটি বেশ বড়। এখান থেকে বাচ্চা, ডিম অন্যান্য ফার্মে সরবরাহ করা হয়।

পরিচিতি: এটা একধরণের ভাইরাসজনিত রোগ। H5N1 নামের এই ভাইরাসটি খুব ভয়ানক। বারবার রূপ পাল্টানোর কারণে একে চেনা কঠিন। সাধারণত: পরিযায়ী পাখি, মুরগি, কবুতর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। হাঁস আক্রান্ত হয় কিন্তু মারা যায়না।

লক্ষণ: পরিযায়ী পাখি, মুরগি ও মানুষের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার পরের লক্ষণগুলি প্রায় একই রকমের। সর্দির মতো সব লক্ষণ। হাচিঁ, কাশি, নাক দিয়ে শ্লেষা পড়া, মাথাব্যাথা (শুধু মানুষ প্রকাশকরতে পারে), শরীর অবসন্ন লাগা, জ্বর। মুরগি বা পাখির পালক ফুলে উঠবে বা খাড়াখাড়া হবে, এলোমেলো হবে। আপাতদৃষ্টিতে সর্দি বলে মনে হতে পারে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে বার্ড ফ্লুকে চিহ্নিত করা কঠিন। মানুষের ক্ষেত্রে মনে হবে হয়তো সাধারন সর্দিজ্বর হয়েছে বা খুব বেশি হলে ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়েছে। আর মুরগির ক্ষেত্রে মনে হবে হয়তো রাণীক্ষেত রোগ হয়েছে। কারন রাণীক্ষেত রোগেও মুরগির সর্দি হয়, বসে বসে ঝিমায়, নাক দিয়ে শ্লেষা পড়ে। ভুল বোঝার কারণে বার্ড ফ্লু রোগকে শনাক্ত করা যায়না। ফলে এটা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসা: ভয়াবহ ঘটনা হচ্ছে এই রোগের কোন চিকিৎসা নেই। মানুষ বা মুরগির দেহের প্রাথমিক লক্ষণগুলি দেখে বোঝায় উপায় নেই যে তার বার্ডফ্লু হয়েছে কিনা। ফলে প্রচলিত চিকিৎসাতেও রোগীর কোন উপকার হয়না। যখন দ্রুত মারা যায় তখন আর কোন কিছু করার কোন উপায় থাকেনা। এই রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কারণ এর কোন চিকিৎসা নেই। কোন কার্যকরী টিকা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নাই।

বাহক: বাতাসে খুব সহজে এই রোগের জীবাণূ স্থান পরিবর্তন করে। জলবাহিত হয়েও এটা লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। হাঁস এই রোগে আক্রান্ত হয় কিন্তু মারা যায়না বা অসুস্থ হয়না। মারা না গেলেও হাঁস এই রোগের ভাইরাস বহন করে। ফলে মুরগির সংস্পর্শে না এসে শুধু হাঁসের সংস্পর্শে এলেও বার্ডফ্লু রোগ হতে পারে।

সতর্কতা: যেহেতু এই রোগের কোন ঔষধ নেই, সেহেতু সচেতনতাই কাউকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। প্রতিষেধকের অভাবে প্রতিরোধ ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নেই। বড়দের তুলনায় শিশুদেরকে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তাদের শরীর প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে বলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।

* রোগাক্রান্ত মুরগির শরীরে হাত দেয়া যাবেনা।
* কোন মুরগি বা পাখি মারা গেলে তা স্পর্শ করা যাবেনা। স্থানীয় কমিশনার বা নিকটবর্তী প্রশাসন বা স্থানীয় প্শুসম্পদ অফিসে জানাতে হবে। তারা সাথে সাথে প্রতিরোধক পোষাক পরে ও যন্ত্রপাতি নিয়ে মরা প্রাণীটি অপসারণ করবে।
* মরা মুরগির পায়খানাতেও জীবাণ থাকে। ফলে এই বিষ্ঠাগুলো মাছের খাবার কিংবা জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।
* মরা পাখি/ মুরগি ৮ ফুট গভীর গর্তে পুঁতে ফেলতে হবে। তার উপরে চুন দিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মৃত মুরগীর লাশের উপরে কমপক্ষে ৩ ফুটের বেশি পুরুত্বের মাটি চাপা দিতে হবে। যেন শিয়াল/ কুকুর জাতীয় কোন প্রাণী কবর খুঁড়তে না পারে।
* কবরস্থান, মারা যাওয়ার স্থান প্রভৃতি জায়গায় জীবাণুনাশক রাসায়নিক দ্রব্য ছিটিয়ে দিতে হবে।
* গৃহপালিত হাঁস-মুরগিকে বন্য পাখিদের সাথে মেলামেশা করতে দেয়া যাবেনা।
* রোগাক্রান্ত মুরগির কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
* ফার্মে কর্মরতদের অবশ্যই হাত এবং শরীরের খোলা অংশ ভালোভাবে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
* কোন জায়গায় বার্ড ফ্লু ধরা পড়লে তার চারপাশের ১ কি.মি. এলাকার সব হাঁস মুরগি কবুতর মেরে ফেলতে হবে। প্রাপ্ত ডিম সব ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
* রোগাক্রান্ত এলাকায় ৩ মাসের জন্য সব ধরণের পাখি পালন নিষিদ্ধ করা হয়। তিন মাস পর পরীক্ষার জন্য কয়েকটি মুরগি এই এলাকায় ছেড়ে দিয়ে কয়েকদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। যদি এই নতুন মুরগিগুলো আক্রান্ত হয় তাহলে বুঝতে হবে সেখানে এখনও বার্ড ফ্লু এর জীবাণু আছে। আবার তিন মাসের জন্য জায়গাটাতে পাখি পালন নিষিদ্ধ করা হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষাটা চলতে থাকবে।

আজ থেকে

আজ থেকে আমার যাবতীয় সাহিত্যকীর্তিগুলো এই ব্লগে থাকবে। লেখা নামক ব্লগটিতে আমার রচনাবলী পোস্ট করবো।

এটার সম্পূর্ণ ঠিকানা হল: http://lekha.wordpress.com/