আজ আমাদের রেড লেটার ডে

আজ আমাদের রেড লেটার ডে।

আজ আমাদের গর্বের দিন। আমাদের বিজয়ের দিন। আমাদের উল্লাসের দিন। আমাদের আনন্দের দিন।

আমরা গত ২ মাসেরও অধিক দিন থেকে যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছিলাম, আজ তা থেকে মুক্ত হলাম।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের চোখে আঁধার নেমে এসেছিল। আজ আমাদের বাঁধন টুটে গেল। আজ ২৭ এপ্রিল তারিখটি আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমার শ্বশুড় এর উপর যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল, আজ আদালতের মাধ্যমে তা থেকে তিনি মুক্ত হলেন। তাকে ফাঁসানোর জন্য নানারকম ফন্দি বের করা হয়েছিল। কিন্তু কোনটাই প্রমাণ করা যায় নি। তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

মেলার কিছু ছবি

মূল মন্দির মূল মন্দির

আশীর্বাদপ্রত্যাশীমেলায় কেনাকাটাকেনাকাটামেলায় বেলুনকদমাঅবসরে আড্ডা

মাধাইখালের কালীপূজা

মন্দিরের মূল গেট

কুড়িগ্রাম জেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মাধাইখাল এলাকার কালীপূজা বহু দিন আগে থেকে হয়। দেশের দুর-দুরান্ত থেকে মানুষ পূজায় মানত নিয়ে আসে। আমার মিসেসের একটা মানত ছিল। মাসহ আমরা গিয়েছিলাম। কালীপূজা আমার কাছে ভাল লাগে। একেবারে নিজস্ব ধর্ম বলে মনে হয়। কালো ত্বক, নগ্ন অবয়ব, উন্মত্ত ভঙ্গি বাঙালি নারীর আরেক রূপচ্ছবি। এই লোকজ সংস্কৃতি আমাদের একেবারে নিজস্ব। যারা দেশপ্রেমিক বিশ্বাসীমাত্রই তা জানেন। আমরা সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ভাষা, সিনেমা, পোষাক, প্রযুক্তি ইত্যাদির বিরোধীতা করি। বরং বিরোধীতা না করাটাই পশ্চাৎপদতা, পরনির্ভরশীলতা, পরমুখাপেক্ষী, নতজানু নীতি, দাসখত ইত্যাদি বলে মনে করি। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ধর্ম সম্পর্কে কিছু বলি না। সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতি, অর্থনীতি যেমন স্বদেশী সংস্কৃতি, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে বিদেশী ধর্ম তেমনি তার সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকা নিপূণ ও যথাযথভাবে কার্যকরী করার চেষ্টা করে।

কালীমাকে মানুষ ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে, ভয় করে। তাকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে। গত মঙ্গলবার কালীপূজা শুরু হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। আজকে এবং আগামী মঙ্গলবার শুধু এই দুইদিন বলি হবে। আজ ভীড় কম হবে, তাই আমরা গিয়েছিলাম। যারা নিয়মিত যাতায়াত করে তারা বলছিল আগামী মঙ্গলবার এর চারগুণ বেশি পূণ্যার্থী আসবে। দোকানপাটের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আমরাও আসার সময় কয়েকটা দোকান অর্ধসমাপ্ত দেখেছিলাম।

১লা বৈশাখের ভাবনা

১লা বৈশাখ যথারীতি এল এবং গেল।

আমি সাধারণত বিশেষ কোন আবেগ অনুভব করি না। এর একাধিক কারণ আছে। ইদানীং ১লা বৈশাখ নিয়ে যে মাতামাতি শুরু হয়েছে তাকে আমার সাময়িক বলেই মনে হয়। ১৫-২০ বছর আগে নববর্ষ আমরা নিজেদের বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশে পালন করতাম। এখনও করি।

যথারীতি চৈত্র সংক্রান্তির দিন নিরামিষ আর ১লা বৈশাখে মাছ বা মাংস রান্না হত/ হয়। ইলিশ পান্তার ভন্ডামী কখনো বাসায় ছিল না। মনে পড়ে ৮৮-৮৯ এর দিকে যখন এইচএসসি পড়ি তখন একজন ক্লাশফ্রেন্ডকে নববর্ষের কার্ড দিয়েছিলাম। সে পরে অন্যদের কাছে আমাকে সাম্প্রদায়িক বলে মন্তব্য করেছিল। ইদানীং ঢাকায় ১লা বৈশাখ নিয়ে যে উল্লাস হয় তার আয়ুষ্কাল কতদিন? আমার ধারণা খুব বেশি হলে ৩৫-৪০ বৎসর। বাঙালি জাতি হিসেবে পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য হবে। কারণ এই মুহূর্তে বাঙালি বা বাংলাদেশীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মেধাবী মানুষের বড় অভাব। প্রধানত সাহিত্য একটা জাতির আদর্শ, নীতি, লক্ষ্য তৈরি করে দেয়। বিজ্ঞানীরা নানাকিছু আবিষ্কার করে জীবনযাপনকে সহজ করতে পারেন কিন্তু জাতীয়তাবোধ তৈরিতে তাদের ততটা অবদান নেই। তো সেই সাহিত্যাঙ্গনে বাংলার অবস্থান কোথায়? স্বাধীনতার পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি দেবার মত সাহিত্যিক আমাদের নেই। অনেকে ভারতের তুলনা দেন। কিন্তু আমি তা করতে চাইনা। সেখানে হিন্দী ভাষাভাষীদের তুলনায় বাঙালিদের মেধা বা কীর্তি ততোটা উল্লেখযোগ্য নয়। বুকার পুরস্কার বা এরকম আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাঙালি লেখকদের পদচারণা এখন দুর্লভ হয়ে পড়েছে। (তবে ভারতের বিষয় নিয়ে আমি ভাবিত নই) বাংলাদেশের কয়েকজন চিত্রশিল্পী এবং স্থাপত্যশিল্পী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানিত হন। কিন্তু সাহিত্যিক কত জন আছেন? নেই বললেই চলে। তাহলে সংস্কৃতির চালক কে হবেন? সাহিত্যিক নাকি মঞ্চশিল্পী, বিজ্ঞানী, কম্পিউটার/ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কে? মঞ্চশিল্পীরা কি নতুন কোন নৃত্যভঙ্গি বা সঙ্গীতশিল্পীরা কি নতুন কোন সঙ্গীতধারা বা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররা কি নতুন কোন অপারেটিং সিস্টেম (বা কম্পিউটার সম্পর্কিত কোন মৌলিক কিছু) বা সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা কি নতুন কোন আবাসন (বা তাদের বিষয়গত মৌলিক কিছু) বা বিজ্ঞানীরা কি নতুন কোন আবিষ্কার করতে পেরেছেন? আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত হয় এমন কিছুর জন্ম দিতে পেরেছেন? না পারেননি। তারা ইংরেজিভাষীদের (আমি পশ্চিমা শব্দটি ব্যবহারে আগ্রহী নই) আবিষ্কার- উদ্ভাবনকে হয়তো মডারেট করছেন। তাদের উদ্ভাবনের উপর নিজস্ব রঙ বা কোন ডিজাইন প্রতিস্থাপন করছেন। এটাকে কোন মৌলিক কাজ বলা যায় না।

সম্প্রতি চাল নিয়ে ভারতের সাথে যে সমস্যা এতে অনেকে ভারতকে দোষ দিচ্ছেন। কিন্তু আমি অন্যের দোষ খোঁজার আগে নিজের দোষটা খুঁজতে চাই। আমরা কি চাল উৎপাদনে সয়ংসম্পূর্ণ হতে পারতাম না? তাহলে আমরাই বরং ভারতের বিপদের দিনে চাল দিতাম না। ঘটনার নেতৃত্ব আমাদের হাতেই থাকত। জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে যদি এই সমস্যা হয়ে থাকে তাহলেও তো দোষটা আমাদের। মাছির মত বংশ বিস্তার করার দরকার কি ছিল? যে জাতি ভবিষ্যতের কথা ভাবতে পারে না তার তো ভবিষ্যত বলতে কিছু থাকে না।

বৈশাখী উৎসবে যে ধরণের আচরণ করা হয় তা কতটুকু বাঙালিসুলভ বা হিন্দুসুলভ? অনেকে ইসলামিস্টদের বক্তব্যে দোষ খোঁজেন, কিন্তু আমি নীতির প্রশ্নে ইসলামিস্টদের দোষ দেখি না। ইসলাম হচ্ছে একটি টোটাল জীবনব্যবস্থা (ওই মত অনুযায়ী)। এখানে চিন্তার স্বাধীনতা বা ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। মনে রাখতে হবে মুতাজিলাদের মতবাদ আমরা কেউই মেনে চলি না। বা তাদেরকে আমরা ভাল মানুষ বলেও স্মরণ করি না। মূর্তি নিয়ে প্রদক্ষিণ বা রঙ খেলা বা নাচানাচি এই বিষয়গুলো তো আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত। তাহলে যারা এসব করছে তারা কি ভুল করছে? হয়তো ভুল করছেনা। এর কারণ আসলে এটাই যে তারা জানেনা যে তারা ভুল করছে। কোন একটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতে হলে তাকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে, প্রাত্যাহিক জীবনে তার প্রভাব থাকতে হবে। না হলে তা অন্ত:সারশূন্য আস্ফালনে পরিণত হয়। এই বিষয়গুলো এমনই যে যদি তা অন্তরের অন্তস্থলে প্রোথিত আদর্শ বা নীতিবোধের সাথে না মেলে তাহলে তা এমনিতেই টিকে থাকে না। তাই আমার মনে হয় যারা ১লা বৈশাখকে নিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গি করছে তাদের নিজেদেরকেই নিজের মনে প্রশ্ন তুলতে হবে। এজন্য সংস্কৃতির স্বরূপকে চিনতে হবে। আজকে যে মাতামাতি তা অনেকাংশে ঢাকা এবং জেলা শহরকেন্দ্রিক। গ্রামে কি এর কোন প্রভাব আছে। মাত্র ২০% লোকের মনোভঙ্গি দিয়ে একটা দেশকে বোঝা যায় না। বাংলাদেশের আপামর জনগণ আবহমান কাল ধরে যে জীবন যাপন করছে তাই বাঙালিত্ব। এতে নাগরিক রূপ দেয়া হল রঙের প্রলেপ মাত্র (বাংলাদেশে আদতে সংজ্ঞানুযায়ী কোন নগর নেই। তার মানে নাগরিক বলতে আসলে কেউ নাই। ঢাকা মূলত একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম মাত্র)। তারা এমন দরিদ্র যে ইলিশ মাছ কেনার কথা তারা স্বপ্নেও ভাবে না। ১লা বৈশাখ তাদের বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখবার দিন। (নতুন জামাকাপড়? তাহলে ঈদে কি করবে?) সারাদিন কোন খারাপ কথা না বলার দিন। ঝগড়াঝাটি এড়িয়ে চলার দিন। নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণে (??) কোনদিন তাদের কোন যায় আসে নি, আজকেও আসে না। নতুন কোন সংস্কৃতিকে জাগরিত করার মত শক্তি কি আমাদের আছে?

চিলমারীর স্নান

আজ ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর স্নান হচ্ছে। পৌরাণিক কাহিনীর ধারাবাহিকতায় কৃড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থানার ব্রহ্মপুত্র নদীর ঘাটে প্রত্যেক বছরের মত এবারও পূণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে মেলা উপলক্ষ্যে। গত কয়েকদিন থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস রাস্তায় ভীড় জমিয়েছে।
আমার মেলায় পূণ্যস্নানে অংশগ্রহণের জন্য যাওয়া হয় নি। অফিস আমাকে ছুটি দেয়নি। মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে না পারলেও মেলা সম্পর্কিত একাধিক অভিজ্ঞতা রাস্তাতেই হয়ে গেল।
বাসে শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে লোকজন বলাবলি করছিল

  • মানুষ খেতে পায় না আর ওরা স্নান শুরু করেছে। যতসব বদমাশী।
  • এই হিন্দুদের কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেল।
  • মেলার কারণেই আজ বাসে এত ভীড়।
  • মেলা করার জন্য সরকার কেন যে অনুমতি দিল, বুঝতে পারলাম না? ভারতের দালালী বুঝলেন ভারতের দালালী।

বিকেলে কুড়িগ্রাম শহরের মজিদা কলেজ মাঠে একটা মেলা হল। নাম ‘চ্যাংড়ার মেলা’। সেখানেও যাওয়া হয়নি। এই মেলায় রসুন, পিয়াজ, মৌরি ইত্যাদি ওঠে। মানুষ সংবৎসরের জন্য এই মসলাগুলো কিনে রাখে।

আজ অন্যরকম

আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি। লিপইয়ারের কারণে চার বছর পর পর ফেব্রুয়ারি মাসে অতিরিক্ত ১ দিন যোগ করা হয়। আর সেই দিনটি হল আজ। আজকের দিনের ভিন্নরকম বোধটি সকলের সাথে শেয়ার করার মত। তাই সকলকে জানাই আগামী চার বছরের শুভেচ্ছা।

শু�েচ্ছা

আজকের এই দিনটি সহ আগামী চার বৎসর সকলের ভাল কাটুক। কেউ যেন দু:খবোধ না করে। কেউ যেন কষ্ট না পায়। আগামী চার বৎসর যেন সকলের আনন্দে, সক্রিয়তায়, ভালবাসায় কাটে। আশা করি আগামী চার বৎসর সকলের জীবন সমৃদ্ধ থাকবে। চার বৎসর পর যেন সকলের সাথে হাসিমুখে মিলিত হতে পারি। আর যারা আজকের দিনে কষ্ট পাচ্ছে, দু:খের অমানিসাশায়রে ডুবে আছে, তাদের জীবন সুখবরের আলোয় আলোকিত হোক। তাদের সমস্যা কেটে যাক। তারা ফিরে আসুক আনন্দের ও উচ্ছ্বলতার পৃথিবীতে।

সর্বে ভবন্তু সুখীন:
সর্বে সন্তু নিরাময়া
সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্ত
মা কশ্চিৎ দু:খভাগ ভবেৎ।
সকলে সুখী হোক, সকলে রোগমুক্ত হোক, কেউ যেন দু:খভোগ না করে।

বই মেলা

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার দুর্গাপুর ইউনিয়নে বই মেলা হচ্ছে। ভ্রমণ করলাম। মানুষের মধ্যে গ্রন্থপ্রীতি লক্ষ্য করে ভাল লাগল। বেশ বই বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা খুশি। গ্রামের মত একটি জায়গায় বই মেলা নিয়ে এমন সাড়া পাওয়া সত্যিই আশাপ্রদ।

বই মেলা ৩

বই মেলা ১

 বই মেলা ২

 বই মেলা ৪