পরিবর্তিত আবহাওয়া

পরিশ্রমের পরিমাণ দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। হাতে বিশ্রাম নেবার সময় কম থাকছে। আবহাওয়াও অনুকূল নয়। কয়েক বছর হল যে পরিমাণ গরম পড়ছে তাতে তো স্বাভাবিক বা স্থির থাকাই কঠিন।

গ্রীষ্মকাল চলছে। কিন্তু গত বৎসরগুলোর মত গরম লাগছে না। দিনে গরম লাগছে, কিন্তু মধ্যরাতের পর আবার ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করে। সকালে ফুল হাতা শার্ট পড়ে বের হই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার শরীর ঘামতে শুরু করে। ভিজে চপচপে হয়ে যায়। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল বলতে ভাদ্র মাসকেই বোঝানো যেতে পারে। ভাদ্র মাসের গরম বলতে একটি পুরনো প্রবাদের কথা বলতে হয়। “তালপাকা গরম”। সেই তালপাকা গরম যে কি জিনিস তা বাংলাদেশ অঞ্চলে বাস না করলে বোঝানো যাবে না। তারউপর আমার রুমের পশ্চিম দিকটা সম্পূর্ণ খোলা। দুপুরের পরের রোদ সম্পূর্ণ দেয়ালে এসে পড়ে। দেয়াল গরম হয়, সাথে সাথে রুম উত্তপ্ত হতে থাকে। তখন রুমের তাপমাত্রা যে কত হয় তা বলা কঠিন। একটা ব্যারোমিটার থাকলে ভাল হত। সঠিক তাপমাত্রা পরিমাপ করা যেত।

এখনই যে গরম পড়ছে, তাতে তো ভয় লাগছে। ভাদ্র মাসে কি যে হবে।

এই কয়দিন

গত কয়েকদিন কিছুটা অসুস্থ ছিলাম। তাই কম্পিউটারের সামনে বসতে পারিনি। আজ কিছুটা ভাল লাগছে।

এই কয়দিন আবহাওয়ার ব্যবহারের তেমন কোন পরিবর্তন হয় নাই। দিনে প্রচণ্ড গরম। রাতে ঠাণ্ডা। বিশেষত: কয়েকদিন ধরে মধ্যরাতের পর বৃষ্টি হচ্ছে।

বাসায় ভাগ্নে, ভাগ্নি সহ বোন এসেছে। তারা কয়েকদিন থাকবে। ৫ বৎসর বয়সী ভাগ্নে আর ৭ মাস বয়সী ভাগ্নিকে নিয়ে বেশ আনন্দেই কাটছে সময়।

দুপুরে বৃষ্টি

দুপুরে হঠাৎ করেই বৃষ্টি এল। একেবারে হঠাৎ করে এসেছে তা বলা যাবে না। কারণ সকালে রোদ থাকলেও ৯টার পর থেকে আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছিল। চারপাশ ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু মেঘের গর্জন ছিল না। আবার বাতাসও তেমন ছিল না। অর্থাৎ প্রকৃতি বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়বার অপেক্ষায় ছিল। আমরা হয়তো ততোটা বুঝতে পারিনি। তাই বৃষ্টির মধ্যে আটকা পড়ে গেছি। প্রায় ১ ঘন্টা অঝোর ধারা ঝরে বৃষ্টি থেমে গেল। বিকেল হতে হতে আবার সূর্যের হাসিমুখ দেখতে পেলাম।

স্বস্তির দিন

আবহাওয়ার পরিবর্তনে আজ মানুষের মনে একটু স্বস্তি এসেছে। ঝড় বৃষ্টির আশংকা নেই। সহনশীল তাপমাত্রা। আকাশে মেঘের আনাগোনা কমে গেছে। সূর্যও নিজরূপে ফিরে এসেছে মধ্যগগনে। তবে আজকে তাপমাত্রা ততোটা ছিল না। গ্রামে কৃষকের মনে পাকা ধানের সুবাস উদ্বেলিত করছে।

দিনে রোদ, রাতে বৃষ্টি

পরপর দু’রাত খুব ঝড়বৃষ্টি হল। স্থানে স্থানে নীচু জায়গায় জল জমে গেছে। একটু একটু ঠাণ্ডাও পড়েছে। রাতে ফ্যান অন রেখে ঘুমানো যায় না। ভোরে গলায় ঠাণ্ডা লেগে যায়। কিন্তু দিনের বেলা আবার সবকিছু অন্যরকম। গরম, রৌদ্ররশ্মি এবং রৌদ্রতাপ। শরীর যেন সিদ্ধ হয়ে যেতে চায়। ঘামের প্রাবল্যে দিনে কয়েকবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্নান হয়ে যায়।

দিনে গরম রাতে ঠাণ্ডা

“দিনে গরম আর রাতে ঠাণ্ডা” - বর্তমানের আবহাওয়াকে এর চাইতে সহজ কথায় ব্যাখ্যা করা একটু কঠিন। দিনের বেলা প্রচণ্ড গরমের মধ্য দিয়েই প্রাত্যাহিক কার্যাবলী চালাতে হয়। মাথার উপর তপ্ত রোদ, নিচে ফুটন্ত পিচগলা পথ। চোখ ঝলসে যায়। শরীর ঘামতে ঘামতে জলশূন্য হয়ে যেতে চায়। বাড়িতে এসে স্নান না করা পর্যন্ত শরীর শান্ত হয় না। কিন্তু রাত্রের আবহাওয়া কিঞ্চিৎ বিপরীত। মধ্যরাতের পর থেকে ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করে। ভুলক্রমে ফ্যান অন করা থাকলে ঠাণ্ডায় গলা বসে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে অস্বাভাবিক ভারী গলায় কথা বলতে হয়। গরম জলে গার্গল করার পর কণ্ঠ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

খাদ্য হিসেবে আলু

সম্প্রতি খাদ্য হিসেবে আলু গ্রহণ করা নিয়ে বেশ বিতর্ক জমে উঠেছে। আমার কাছে বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। কারণ আলু একটি পুষ্টিকর খাবার। হয়তো অসময়ে বলা হয়েছে; কিন্তু তার মানে এই নয় যে কথাটি অগ্রহণযোগ্য। আমার যতদূর মনে পড়ে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেবের সময়ে আলুকে খাবার হিসেবে জনপ্রিয় করার বেশ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তখন বারবার প্রচার করা হত- “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”। কিন্তু আলুকে তখন সরকারি প্রত্যাশামতো প্রচলিত করা যায়নি। এবার সারা পৃথিবীতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সুযোগে আলু’র উপর নির্ভরতা যদি একটু বাড়ানো যায় তাহলে খুব ভাল হয়।

আমরা যে নতুন কিছু গ্রহণ করি না তা নয়। আমরা পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে মোবাইল ফোন, ভিসিডি ইত্যাদি গ্রহণ করেছি। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মোবাইল ফোন এবং সেই সম্পর্কিত বিনোদন চলে গেছে। তরুণদের রাত জাগার অভ্যাস বাড়ছে। আবার চিঠি লেখার মত ভাল অভ্যাস ত্যাগ করা হয়ে গেছে।

খাবার বিষয়েও আমরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই তো তিন-চার বছর আগে হাইব্রিড চালের ভাত খেতে চাইতাম না। রাবারের মত স্বাদ বা ঝরঝরে হয় না ইত্যাদি অজুহাত তুলতাম। কিন্তু এখন আর সেসব কথা কেউ ভাবে না। ব্রিগেড মাছ খেতেও এক সময় আমরা অনিচ্ছুক ছিলাম। কিন্তু এখন ব্রিগেড ছাড়া পাতে মাছ ওঠেনা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই পরিবর্তিত বৈশ্বিক অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও বেশি করে আলু খাবার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পুরনো শ্লোগান আবার উচ্চারণ করি “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”

আমাদের সংস্কৃতিতে আলু একটি অন্যতম উপাদান হোক, সরকারি এই প্রত্যাশার সাথে আমি একমত পোষণ করি।