আজ ১ মে
মে 1, 2008 — susantaআজ ১ মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শোষিত মানুষের স্বপ্ন দেখার দিন। তাদের শ্রমের মর্যাদা পাবার দিন। এই দিনটিকে অনেকে মে দিবস বলে ডাকে।
এই দিনটির সুচনা হয় আমেরিকা থেকে। শিল্প কারখানা আবিষ্কারের সাথে সাথে পণ্যের উৎপাদন বেড়ে যায় কয়েকগুন। মালিকের ঘরে মুনাফার পাহাড় জমে যায়। আরও আরও বেশি লাভের প্রত্যাশায় শ্রমিকদেরকে অমানুষেক পরিশ্রম করতে হত। কোন সময়ের নির্দিষ্টতা ছিল না। তাদেরকে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ঘন্টা কাজ করতে হত। আর এই কঠোর পরিশ্রমের বিপরীতে মজুরী মিলত খুবই কম। ১৮৮৪ সাল থেকে শ্রমিকরা এ বিষয়ে সচেতন হওয়া শুরু করে। তারা দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের সময় নির্দিষ্ট করার দাবী জানায়। কিন্তু মালিকপক্ষ তাদের দাবীকে উপেক্ষা করে। তারা সময়সীমা বেধে দেয় ১৮৮৬ সালের ১ মে তারিখ পর্যন্ত।কিন্তু মালিকপক্ষ যথারীতি এই দাবিকে উপেক্ষা করেছিল। পরে ৪ মে তারিখে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘন্টা কাজের দাবীতে শ্রমিকরা যখন বিক্ষোভ করছিল। তখন পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদেরকে আক্রমণ করে। মারা যায় ১১ জন।
পরবর্তীতে তাদের দাবী ন্যায্য বলে স্বীকৃতি পায় এবং সারাবিশ্বে ৮ ঘন্টা কাজের জন্য সময় হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়।
সেই থেকে আজ পর্যন্ত ১ মে তারিখ সারা পৃথিবীর শোষিত জনগণের, শ্রমিক শ্রেনীর দাবী আদায়ের দিন, প্রতিবাদ জানানোর দিন, আত্মমর্যাদা খুঁজে পাবার দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
এই দিনে সবাই শ্রমের মর্যাদাকে স্বীকার করে, শ্রমিকদেরকে সম্মান দেয়ার কথা বলে, শ্রমিকদের শোষণ মুক্তির কথা বলে কিন্তু তারপরও শ্রমিকদের দুর্দশা দূর হয় না। তারা যেমন দরিদ্র ও নিপীড়িত ছিল তেমনই থেকে যায়। দিবস পালিত হয় কিন্তু দিবসের চেতনা পরিস্ফুট হয় না।
আরও তথ্য পাওয়া যাবে বাংলা উইকিতে।


















