আজ ১ মে

আজ ১ মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শোষিত মানুষের স্বপ্ন দেখার দিন। তাদের শ্রমের মর্যাদা পাবার দিন। এই দিনটিকে অনেকে মে দিবস বলে ডাকে।

এই দিনটির সুচনা হয় আমেরিকা থেকে। শিল্প কারখানা আবিষ্কারের সাথে সাথে পণ্যের উৎপাদন বেড়ে যায় কয়েকগুন। মালিকের ঘরে মুনাফার পাহাড় জমে যায়। আরও আরও বেশি লাভের প্রত্যাশায় শ্রমিকদেরকে অমানুষেক পরিশ্রম করতে হত। কোন সময়ের নির্দিষ্টতা ছিল না। তাদেরকে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ঘন্টা কাজ করতে হত। আর এই কঠোর পরিশ্রমের বিপরীতে মজুরী মিলত খুবই কম। ১৮৮৪ সাল থেকে শ্রমিকরা এ বিষয়ে সচেতন হওয়া শুরু করে। তারা দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের সময় নির্দিষ্ট করার দাবী জানায়। কিন্তু মালিকপক্ষ তাদের দাবীকে উপেক্ষা করে। তারা সময়সীমা বেধে দেয় ১৮৮৬ সালের মে তারিখ পর্যন্ত।কিন্তু মালিকপক্ষ যথারীতি এই দাবিকে উপেক্ষা করেছিল। পরে ৪ মে তারিখে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘন্টা কাজের দাবীতে শ্রমিকরা যখন বিক্ষোভ করছিল। তখন পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদেরকে আক্রমণ করে। মারা যায় ১১ জন।

পরবর্তীতে তাদের দাবী ন্যায্য বলে স্বীকৃতি পায় এবং সারাবিশ্বে ৮ ঘন্টা কাজের জন্য সময় হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়।

সেই থেকে আজ পর্যন্ত ১ মে তারিখ সারা পৃথিবীর শোষিত জনগণের, শ্রমিক শ্রেনীর দাবী আদায়ের দিন, প্রতিবাদ জানানোর দিন, আত্মমর্যাদা খুঁজে পাবার দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এই দিনে সবাই শ্রমের মর্যাদাকে স্বীকার করে, শ্রমিকদেরকে সম্মান দেয়ার কথা বলে, শ্রমিকদের শোষণ মুক্তির কথা বলে কিন্তু তারপরও শ্রমিকদের দুর্দশা দূর হয় না। তারা যেমন দরিদ্র ও নিপীড়িত ছিল তেমনই থেকে যায়। দিবস পালিত হয় কিন্তু দিবসের চেতনা পরিস্ফুট হয় না।

আরও তথ্য পাওয়া যাবে বাংলা উইকিতে

দুর্গাপুরের ব্রিজ

উলিপুরের রাস্তায় দুর্গাপুরের পরে এই ব্রিজটি বহুদিন হল অসমাপ্ত পরে আছে। প্রতিদিন দেখি আর ভাবি এভাবে অসমাপ্ত পরে আছে কেন? সেদিন বাসের মধ্যে একজন মন্তব্য করছিল ব্রিজের ডিজাইনে কি যেন একটা ত্রুটি আছে সেজন্য নাকি কন্ট্রাকটরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে (শোনা কথা, নিশ্চিত নই)। ভাল করে খেয়াল করে দেখলাম কথাটা সত্যি হতেও পারে। কারণ ব্রিজের দু’পাশের মাটি আটকানোর জন্য যে উইং দেয়া দরকার তা দেয়া হয় নি। তার মানে ব্রিজ খুলে দেয়ার পর দু’দিনেই তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। দুপাশের মাটি বসে যাবে। তাছাড়া দুপাশের রাস্তার তুলনায় ব্রিজটা একটু বেশি বাঁকা করে নাকি তৈরি করা হয়েছে। আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নই। তারপরও রাস্তার বক্রতা আমার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় নি। ইচ্ছা করলে রাস্তা বরাবর প্রায় সোজা করে ব্রিজটি তৈরি করা যেত। সরকারি অর্থের অপচয়ের এটা আরেকটা দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

সেনাপ্রধানের কৃতিত্ব

আজকের পত্রিকায় সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের একটি দারুণ সাফল্যের খবর এসেছে। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল।

সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের উদ্যোগে বেঁচে গেলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা। গতকালকের পত্রিকায় এ সম্পর্কিত একটি খবর প্রকাশ হলে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ফাঁসি মওকুফের আবেদনটি বিবেচনা করেন এবং তাতে সায় দেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব :) সিআর দত্ত বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধা রাখালচন্দ্র নাহার প্রাণভিক্ষা করে রাষ্ট্রপতি বরাবরে আবেদন করেছিলেন। কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীও রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রাণভিক্ষার আবেদন জানান। সেনাপ্রধানের বিশেষ উদ্যোগেই রাখালচন্দ্র নাহার প্রাণ বেঁচে গেল। ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠন এ কারণে সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

খবরে প্রকাশ ১৯৯৯ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বেগমাবাদ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাখালচন্দ্র নাহার আত্মীয় জ্যাঠাতো বোনের জামাই শ্রী দীনেশচন্দ্র দত্ত তার লোকজন নিয়ে রাখালচন্দ্র নাহার বাড়িতে হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নিজেদের লোকদের লাঠির আঘাতে দীনেশ দত্ত মারাত্মক আহত হয় এবং পরে হাসপাতালে মারা যায়। এই ঘটনাতে রাখালচন্দ্র নাহার কোন হাত ছিল না। ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ তাকে ফাসির আদেশ প্রদান করেন। হাইকোর্টে আপীল করলে ২০০৪ সালের ৯ নভেম্বর তারিখে তা খারিজ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে মূল ঘটনার পর ১১ বছর পেরিয়ে গেছে। আজকে রাষ্ট্রপতির তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ফাসির আদেশটা স্থগিত করে দেন। রাখালচন্দ্র নাহার সন্তানেরা তার ১১ বছর জেল খাটার বিষয়টি বিবেচনায় এনে তাকে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ তাঁর আজকের এই কৃতিত্বের জন্য আমাদের মত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কাছ থেকে হাজার সালাম প্রাপ্য হয়ে গেলেন। তিনি বলেন -একজন মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রাখালচন্দ্র নাহাকে ফাসি দেয়া হবে সংবাদটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করলাম, হয়ত সে অন্যায় করেছেন। বিচারক তাই ঠিকই বিচার করেছেন। তবুও সে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তার প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো কর্তব্য।…. এটা আমাদের বিরাট প্রাপ্য যে রাখালচন্দ্র নাহা একজন বীর মক্তিযোদ্ধা। তিনি দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে শত্রুর সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। ….আমাদের সকলেরই দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। তারা মুক্তিযুদ্ধ করে তাদের জীবন দিয়েছেন আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, আমরা যদি তাঁদের দিকে না তাকাই, সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে দেই, তাহলে এটা বড়ই অন্যায় কাজ হবে।…. পত্রিকায় পড়েছি মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন জায়গায় না খেয়ে আছেন। আমরা এসব খবরের প্রতি দৃষ্টি দেব এবং দেশবাসীকে বলব তাদের প্রতি আমরা যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই।

সত্যিই তাই, আজ যেখানে রাজাকার আলবদররা বুক ফুলে রাস্তায় হেটে বেড়াচ্ছে। সেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা ফাসিতে মারা যাচ্ছিলেন এটা ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়। সেনাপ্রধান আমাদের মনকে আনন্দে পূর্ণ করেছেন এজন্য তাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

হঠাৎ কুয়াশা

সকালে হঠাৎ করেই কুয়াশা পড়েছিল। চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে গিযেছে। সবাই অবাক। আমি ৮.০০টার দিকে উঠে দেখি কিছু দেখা যাচ্ছেনা। চারপাশ সাদা হযে আছে।

হঠাৎ

হঠাৎ কুয়াশা

ঘুষ! ঘুষ!

একজন বন্ধু মানুষকে পুলিশ সন্দেহমূলক ধরেছে। এর পরের দৃশ্যাবলী নিম্নরূপ:

* থানার হাজতে দেখা করতে গেলে ৫০ টাকা দিতে হয়েছে। সকালে বিকালে যতবার ডিউটিরত পুলিশ বদলেছে ততবার টাকা দিতে হয়েছে। কারণ আমরা সকালে বিকালে বারবার তাকে দেখতে গেছি।
* এজাহারের ফটোকপি নিতে ২০০ টাকা দিতে হয়েছে।
* যে পুলিশরা থানার বাইরে দাড়িয়ে ছিল তাদেরকে পাশের দোকনে কেক-কলা-চা খাওয়াতে হয়েছে। তারাই যেচে এসে কথা বলে। আবার খেতে চায়। আমরা বিপদে পড়েছি। না খাইয়ে আর উপায় কি?
* হ্যান্ডকাফ যেন না লাগায় সেজন্যও টাকা দিতে হয়েছে। ২০০ টাকা।
* হাজতীকে আদালতে চালান করে দেয়া হল। আদালতের পাশে একটি ছোট্ট জেলখানা আছে। সেখানে আদালতে তোলার আগে রাখা হয়। সেখানে দেখা করতে গেলে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। না হলে বসতে দেবেনা। হ্যান্ডকাফ লাগাবে।

প্রীতিভোজ

১১ তারিখে ছিল ভাগ্নির অন্নপ্রাশন এর ধর্মানুষ্ঠান। আর ১২ তারিখে হল তার প্রীতিভোজ। ১২ তারিখে ওয়ার্ডপ্রেস এর কোন সমস্যার কারণেএই পোস্টটি পাবলিশ পারিনি। আজ পাবলিশ হল।

আমন্ত্রিত অতিথিদের কলরবে মুখরিত ছিল সারা বাড়ি। ছোট্ট ভাগ্নি ছিল চুপচাপ। একবারও কান্নাকাটি করেনি। চুপচাপ থেকে এর কোল থেকে ওর কোলে ভ্রমণ করতে করতে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছে।

অখিল

তাকিয়ে আছে কাকা অখিল

অতিথি

আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ

অতিথি

বাবার কোলে

পিতার কোলে অবাক চোখে

সূর্যমুখী

সূর্যমুখী

 নদীতীরে সূর্যমুখী চাষ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে।

 সূর্যমুখী