মর্মান্তিক

সেদিন একটা খবর দেখলাম। বিডিনিউজ ২৪ থেকে ছবিটা নিয়েছি। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের ১২ তারিখে Rangs ভবন অভ্যন্তভাগ ধ্বসে যাওয়ার পর ১১টি লাশ উদ্ধার হয়েছিল। আর উদ্ধার হল তার মধ্যে আর এক জনের একটি কঙ্কাল। হায় বেচারা। মারা যাওয়ার এতদিন পর তার দেহাবশেষ উদ্ধার হল। প্রসঙ্গত মনে পড়ছে সাভারের যে ৯ তলা কারখানা ধ্বসে গিয়েছিল। তার উদ্ধারকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেইসব ধ্বংসাবশেষ এর নিচে কোন হতভাগার কঙ্কাল এখনও রয়ে গেছে।

আজ ১ মে

আজ ১ মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শোষিত মানুষের স্বপ্ন দেখার দিন। তাদের শ্রমের মর্যাদা পাবার দিন। এই দিনটিকে অনেকে মে দিবস বলে ডাকে।

এই দিনটির সুচনা হয় আমেরিকা থেকে। শিল্প কারখানা আবিষ্কারের সাথে সাথে পণ্যের উৎপাদন বেড়ে যায় কয়েকগুন। মালিকের ঘরে মুনাফার পাহাড় জমে যায়। আরও আরও বেশি লাভের প্রত্যাশায় শ্রমিকদেরকে অমানুষেক পরিশ্রম করতে হত। কোন সময়ের নির্দিষ্টতা ছিল না। তাদেরকে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ঘন্টা কাজ করতে হত। আর এই কঠোর পরিশ্রমের বিপরীতে মজুরী মিলত খুবই কম। ১৮৮৪ সাল থেকে শ্রমিকরা এ বিষয়ে সচেতন হওয়া শুরু করে। তারা দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের সময় নির্দিষ্ট করার দাবী জানায়। কিন্তু মালিকপক্ষ তাদের দাবীকে উপেক্ষা করে। তারা সময়সীমা বেধে দেয় ১৮৮৬ সালের মে তারিখ পর্যন্ত।কিন্তু মালিকপক্ষ যথারীতি এই দাবিকে উপেক্ষা করেছিল। পরে ৪ মে তারিখে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘন্টা কাজের দাবীতে শ্রমিকরা যখন বিক্ষোভ করছিল। তখন পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদেরকে আক্রমণ করে। মারা যায় ১১ জন।

পরবর্তীতে তাদের দাবী ন্যায্য বলে স্বীকৃতি পায় এবং সারাবিশ্বে ৮ ঘন্টা কাজের জন্য সময় হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়।

সেই থেকে আজ পর্যন্ত ১ মে তারিখ সারা পৃথিবীর শোষিত জনগণের, শ্রমিক শ্রেনীর দাবী আদায়ের দিন, প্রতিবাদ জানানোর দিন, আত্মমর্যাদা খুঁজে পাবার দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এই দিনে সবাই শ্রমের মর্যাদাকে স্বীকার করে, শ্রমিকদেরকে সম্মান দেয়ার কথা বলে, শ্রমিকদের শোষণ মুক্তির কথা বলে কিন্তু তারপরও শ্রমিকদের দুর্দশা দূর হয় না। তারা যেমন দরিদ্র ও নিপীড়িত ছিল তেমনই থেকে যায়। দিবস পালিত হয় কিন্তু দিবসের চেতনা পরিস্ফুট হয় না।

আরও তথ্য পাওয়া যাবে বাংলা উইকিতে

আজ আমাদের রেড লেটার ডে

আজ আমাদের রেড লেটার ডে।

আজ আমাদের গর্বের দিন। আমাদের বিজয়ের দিন। আমাদের উল্লাসের দিন। আমাদের আনন্দের দিন।

আমরা গত ২ মাসেরও অধিক দিন থেকে যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছিলাম, আজ তা থেকে মুক্ত হলাম।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের চোখে আঁধার নেমে এসেছিল। আজ আমাদের বাঁধন টুটে গেল। আজ ২৭ এপ্রিল তারিখটি আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমার শ্বশুড় এর উপর যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল, আজ আদালতের মাধ্যমে তা থেকে তিনি মুক্ত হলেন। তাকে ফাঁসানোর জন্য নানারকম ফন্দি বের করা হয়েছিল। কিন্তু কোনটাই প্রমাণ করা যায় নি। তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

খাদ্য হিসেবে আলু

সম্প্রতি খাদ্য হিসেবে আলু গ্রহণ করা নিয়ে বেশ বিতর্ক জমে উঠেছে। আমার কাছে বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। কারণ আলু একটি পুষ্টিকর খাবার। হয়তো অসময়ে বলা হয়েছে; কিন্তু তার মানে এই নয় যে কথাটি অগ্রহণযোগ্য। আমার যতদূর মনে পড়ে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেবের সময়ে আলুকে খাবার হিসেবে জনপ্রিয় করার বেশ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তখন বারবার প্রচার করা হত- “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”। কিন্তু আলুকে তখন সরকারি প্রত্যাশামতো প্রচলিত করা যায়নি। এবার সারা পৃথিবীতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সুযোগে আলু’র উপর নির্ভরতা যদি একটু বাড়ানো যায় তাহলে খুব ভাল হয়।

আমরা যে নতুন কিছু গ্রহণ করি না তা নয়। আমরা পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে মোবাইল ফোন, ভিসিডি ইত্যাদি গ্রহণ করেছি। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মোবাইল ফোন এবং সেই সম্পর্কিত বিনোদন চলে গেছে। তরুণদের রাত জাগার অভ্যাস বাড়ছে। আবার চিঠি লেখার মত ভাল অভ্যাস ত্যাগ করা হয়ে গেছে।

খাবার বিষয়েও আমরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই তো তিন-চার বছর আগে হাইব্রিড চালের ভাত খেতে চাইতাম না। রাবারের মত স্বাদ বা ঝরঝরে হয় না ইত্যাদি অজুহাত তুলতাম। কিন্তু এখন আর সেসব কথা কেউ ভাবে না। ব্রিগেড মাছ খেতেও এক সময় আমরা অনিচ্ছুক ছিলাম। কিন্তু এখন ব্রিগেড ছাড়া পাতে মাছ ওঠেনা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই পরিবর্তিত বৈশ্বিক অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও বেশি করে আলু খাবার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পুরনো শ্লোগান আবার উচ্চারণ করি “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”

আমাদের সংস্কৃতিতে আলু একটি অন্যতম উপাদান হোক, সরকারি এই প্রত্যাশার সাথে আমি একমত পোষণ করি।

বড় মামার শ্রাদ্ধ

আজ মিসেসের বড় মামার শ্রাদ্ধ হল। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীখাতা গ্রামে গিয়েছিলাম। বাড়িতে অনেক মানুষ এসেছে। ভীড়ে চারপাশ উপচে পড়ছিল। ভিতর-বাহিরের উঠোন ভর্তি হয়ে বাইরের রাস্তা সবখানে শুধু মানুষ আর মানুষ। তিনি বেশ জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন।

নান্দনিক দৃশ্যপট

মামার বাড়ি যাওয়ার পথের মাঝখানে কয়েকটি গাছ মিলে দারুণ একটা নান্দনিক আবহ সৃষ্টি করেছে। ছবি তোলার লোভ সামলানো গেল না।

মেলার কিছু ছবি

মূল মন্দির মূল মন্দির

আশীর্বাদপ্রত্যাশীমেলায় কেনাকাটাকেনাকাটামেলায় বেলুনকদমাঅবসরে আড্ডা

১লা বৈশাখের ভাবনা

১লা বৈশাখ যথারীতি এল এবং গেল।

আমি সাধারণত বিশেষ কোন আবেগ অনুভব করি না। এর একাধিক কারণ আছে। ইদানীং ১লা বৈশাখ নিয়ে যে মাতামাতি শুরু হয়েছে তাকে আমার সাময়িক বলেই মনে হয়। ১৫-২০ বছর আগে নববর্ষ আমরা নিজেদের বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশে পালন করতাম। এখনও করি।

যথারীতি চৈত্র সংক্রান্তির দিন নিরামিষ আর ১লা বৈশাখে মাছ বা মাংস রান্না হত/ হয়। ইলিশ পান্তার ভন্ডামী কখনো বাসায় ছিল না। মনে পড়ে ৮৮-৮৯ এর দিকে যখন এইচএসসি পড়ি তখন একজন ক্লাশফ্রেন্ডকে নববর্ষের কার্ড দিয়েছিলাম। সে পরে অন্যদের কাছে আমাকে সাম্প্রদায়িক বলে মন্তব্য করেছিল। ইদানীং ঢাকায় ১লা বৈশাখ নিয়ে যে উল্লাস হয় তার আয়ুষ্কাল কতদিন? আমার ধারণা খুব বেশি হলে ৩৫-৪০ বৎসর। বাঙালি জাতি হিসেবে পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য হবে। কারণ এই মুহূর্তে বাঙালি বা বাংলাদেশীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মেধাবী মানুষের বড় অভাব। প্রধানত সাহিত্য একটা জাতির আদর্শ, নীতি, লক্ষ্য তৈরি করে দেয়। বিজ্ঞানীরা নানাকিছু আবিষ্কার করে জীবনযাপনকে সহজ করতে পারেন কিন্তু জাতীয়তাবোধ তৈরিতে তাদের ততটা অবদান নেই। তো সেই সাহিত্যাঙ্গনে বাংলার অবস্থান কোথায়? স্বাধীনতার পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি দেবার মত সাহিত্যিক আমাদের নেই। অনেকে ভারতের তুলনা দেন। কিন্তু আমি তা করতে চাইনা। সেখানে হিন্দী ভাষাভাষীদের তুলনায় বাঙালিদের মেধা বা কীর্তি ততোটা উল্লেখযোগ্য নয়। বুকার পুরস্কার বা এরকম আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাঙালি লেখকদের পদচারণা এখন দুর্লভ হয়ে পড়েছে। (তবে ভারতের বিষয় নিয়ে আমি ভাবিত নই) বাংলাদেশের কয়েকজন চিত্রশিল্পী এবং স্থাপত্যশিল্পী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানিত হন। কিন্তু সাহিত্যিক কত জন আছেন? নেই বললেই চলে। তাহলে সংস্কৃতির চালক কে হবেন? সাহিত্যিক নাকি মঞ্চশিল্পী, বিজ্ঞানী, কম্পিউটার/ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কে? মঞ্চশিল্পীরা কি নতুন কোন নৃত্যভঙ্গি বা সঙ্গীতশিল্পীরা কি নতুন কোন সঙ্গীতধারা বা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররা কি নতুন কোন অপারেটিং সিস্টেম (বা কম্পিউটার সম্পর্কিত কোন মৌলিক কিছু) বা সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা কি নতুন কোন আবাসন (বা তাদের বিষয়গত মৌলিক কিছু) বা বিজ্ঞানীরা কি নতুন কোন আবিষ্কার করতে পেরেছেন? আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত হয় এমন কিছুর জন্ম দিতে পেরেছেন? না পারেননি। তারা ইংরেজিভাষীদের (আমি পশ্চিমা শব্দটি ব্যবহারে আগ্রহী নই) আবিষ্কার- উদ্ভাবনকে হয়তো মডারেট করছেন। তাদের উদ্ভাবনের উপর নিজস্ব রঙ বা কোন ডিজাইন প্রতিস্থাপন করছেন। এটাকে কোন মৌলিক কাজ বলা যায় না।

সম্প্রতি চাল নিয়ে ভারতের সাথে যে সমস্যা এতে অনেকে ভারতকে দোষ দিচ্ছেন। কিন্তু আমি অন্যের দোষ খোঁজার আগে নিজের দোষটা খুঁজতে চাই। আমরা কি চাল উৎপাদনে সয়ংসম্পূর্ণ হতে পারতাম না? তাহলে আমরাই বরং ভারতের বিপদের দিনে চাল দিতাম না। ঘটনার নেতৃত্ব আমাদের হাতেই থাকত। জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে যদি এই সমস্যা হয়ে থাকে তাহলেও তো দোষটা আমাদের। মাছির মত বংশ বিস্তার করার দরকার কি ছিল? যে জাতি ভবিষ্যতের কথা ভাবতে পারে না তার তো ভবিষ্যত বলতে কিছু থাকে না।

বৈশাখী উৎসবে যে ধরণের আচরণ করা হয় তা কতটুকু বাঙালিসুলভ বা হিন্দুসুলভ? অনেকে ইসলামিস্টদের বক্তব্যে দোষ খোঁজেন, কিন্তু আমি নীতির প্রশ্নে ইসলামিস্টদের দোষ দেখি না। ইসলাম হচ্ছে একটি টোটাল জীবনব্যবস্থা (ওই মত অনুযায়ী)। এখানে চিন্তার স্বাধীনতা বা ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। মনে রাখতে হবে মুতাজিলাদের মতবাদ আমরা কেউই মেনে চলি না। বা তাদেরকে আমরা ভাল মানুষ বলেও স্মরণ করি না। মূর্তি নিয়ে প্রদক্ষিণ বা রঙ খেলা বা নাচানাচি এই বিষয়গুলো তো আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত। তাহলে যারা এসব করছে তারা কি ভুল করছে? হয়তো ভুল করছেনা। এর কারণ আসলে এটাই যে তারা জানেনা যে তারা ভুল করছে। কোন একটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতে হলে তাকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে, প্রাত্যাহিক জীবনে তার প্রভাব থাকতে হবে। না হলে তা অন্ত:সারশূন্য আস্ফালনে পরিণত হয়। এই বিষয়গুলো এমনই যে যদি তা অন্তরের অন্তস্থলে প্রোথিত আদর্শ বা নীতিবোধের সাথে না মেলে তাহলে তা এমনিতেই টিকে থাকে না। তাই আমার মনে হয় যারা ১লা বৈশাখকে নিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গি করছে তাদের নিজেদেরকেই নিজের মনে প্রশ্ন তুলতে হবে। এজন্য সংস্কৃতির স্বরূপকে চিনতে হবে। আজকে যে মাতামাতি তা অনেকাংশে ঢাকা এবং জেলা শহরকেন্দ্রিক। গ্রামে কি এর কোন প্রভাব আছে। মাত্র ২০% লোকের মনোভঙ্গি দিয়ে একটা দেশকে বোঝা যায় না। বাংলাদেশের আপামর জনগণ আবহমান কাল ধরে যে জীবন যাপন করছে তাই বাঙালিত্ব। এতে নাগরিক রূপ দেয়া হল রঙের প্রলেপ মাত্র (বাংলাদেশে আদতে সংজ্ঞানুযায়ী কোন নগর নেই। তার মানে নাগরিক বলতে আসলে কেউ নাই। ঢাকা মূলত একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম মাত্র)। তারা এমন দরিদ্র যে ইলিশ মাছ কেনার কথা তারা স্বপ্নেও ভাবে না। ১লা বৈশাখ তাদের বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখবার দিন। (নতুন জামাকাপড়? তাহলে ঈদে কি করবে?) সারাদিন কোন খারাপ কথা না বলার দিন। ঝগড়াঝাটি এড়িয়ে চলার দিন। নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণে (??) কোনদিন তাদের কোন যায় আসে নি, আজকেও আসে না। নতুন কোন সংস্কৃতিকে জাগরিত করার মত শক্তি কি আমাদের আছে?