শিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর মহাপ্রয়াণ

সমাজ দর্পণ লোগো

বিদ্যাং চাবিদ্যাং চ যস্তদ্বেদোভয়ং সহ

অবিদ্যয়া মৃত্যুং তীর্ত্বা বিদ্যয়াহমৃতমশ্নুতে।। (ঈশ উপনিষদ-১১)

অর্থ: যিনি বিদ্যা ও অবিদ্যা উভয়কেই একসঙ্গে উপাসনীয় বলে মনে করেন তিনি অবিদ্যা (কর্ম) দ্বারা মৃত্যুকে অতিক্রম করে বিদ্যা (দেবতা চিন্তায়) দ্বারা অমৃত লাভ করে থাকেন

বাংলাদেশজাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি দেশের হিন্দুদের জন্য “এক ধর্ম, এক বর্ণ, এক সমাজ ও এক সংস্কার” এই শ্লোগানটি নিয়ে অরাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণে ব্রতী হয়ে ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা শুরু করেপর্যায়ক্রমে জেলা/উপজেলা/ইউনিয়ন পর্যায়ে চার শতাধিক শাখা সমিতির মাধ্যমে উক্ত কার্যক্রম প্রচার ও প্রসারিত করে১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে নেপালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিন্দু মহাসংঘের মহাসম্মেলনে বিশ্বের সকল হিন্দুর জন্য এই শ্লোগানটি সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়সেই সম্মেলনে বিশ্বের ৩৯টি দেশের প্রতিনিধি, অত্র সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণসহ বাংলাদেশের ১৮৮ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন

এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, সমাজ দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক, সুদর্শন ডাইরেক্টরি পঞ্জিকার সম্পাদক শ্রী শিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তী আজ ইহলোক ত্যাগ করলেনতার মৃত্যুতে বাংলাদেশের প্রগতিশীল হিন্দু সমাজের অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলআমি তার অকাল মৃত্যুতে প্রচণ্ড শোক অনুভব করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছি

মর্মান্তিক

সেদিন একটা খবর দেখলাম। বিডিনিউজ ২৪ থেকে ছবিটা নিয়েছি। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের ১২ তারিখে Rangs ভবন অভ্যন্তভাগ ধ্বসে যাওয়ার পর ১১টি লাশ উদ্ধার হয়েছিল। আর উদ্ধার হল তার মধ্যে আর এক জনের একটি কঙ্কাল। হায় বেচারা। মারা যাওয়ার এতদিন পর তার দেহাবশেষ উদ্ধার হল। প্রসঙ্গত মনে পড়ছে সাভারের যে ৯ তলা কারখানা ধ্বসে গিয়েছিল। তার উদ্ধারকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেইসব ধ্বংসাবশেষ এর নিচে কোন হতভাগার কঙ্কাল এখনও রয়ে গেছে।

বড় মামার শ্রাদ্ধ

আজ মিসেসের বড় মামার শ্রাদ্ধ হল। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীখাতা গ্রামে গিয়েছিলাম। বাড়িতে অনেক মানুষ এসেছে। ভীড়ে চারপাশ উপচে পড়ছিল। ভিতর-বাহিরের উঠোন ভর্তি হয়ে বাইরের রাস্তা সবখানে শুধু মানুষ আর মানুষ। তিনি বেশ জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন।

নান্দনিক দৃশ্যপট

মামার বাড়ি যাওয়ার পথের মাঝখানে কয়েকটি গাছ মিলে দারুণ একটা নান্দনিক আবহ সৃষ্টি করেছে। ছবি তোলার লোভ সামলানো গেল না।

বড়মামা মারা গেলেন

গতরাতেই আমার মিসেসের বড় মামার হার্ট এট্যাকে মারা যাবার খবর শুনেছিলাম। সকালে তাকে স্কুল থেকে নিয়ে গেলাম। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা। শ্রীখাতা গ্রাম। তাঁর চিতায় খড়ি দিলাম।
মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। মামার দুই ছেলে। বড়ছেলে দেবাশীষ এখনও ছাত্র। এইচএসসি পড়ছে। ছোটটা খুব দুষ্ট, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। খুব জেদী, আর রাগী। মামা মৃত্যুর পর থেকে কারও সাথে কোন কথা বলেনি। একবারও কাদেনি। চুপচাপ আছে। কেউ কিছু বলতে গেলে বিরক্ত হচ্ছে। মামী শুধু একটা কথাই বারবার বলছে -এটা কি হলো? এটা কি হলো?
মামা একটা বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আগে থেকেই তার হার্টের সমস্যা ছিল। সময়মতো ডাক্তারকে দেখানো হয়নি। তিনি নিজেও অতটা গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন কয়েকদিন পর ডাক্তারের কাছে যাব। কিন্তু সে সময় আর পেলেন না। সন্ধ্যায় যথারীতি বাজার করেছেন। রাতে খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়েছেন। কিন্তু রাত পৌনে ১২টার দিকে বুক ব্যথা উঠেছে। আধাঘন্টার মধ্যেই মারা গেলেন।

ব্যর্থতায় পর্যবসিত

সম্ভাবনা ছিল নতুন খবরের, আনন্দের, উৎফুল্লের, কিন্তু সব কিছু পর্যবসিত হল ব্যর্থতায়। আমাদের কপালে শিকে ছিড়লনা। আজকের দিনটাও পরিণত হল মাটিতে।

একই রকম

একই রকম, একই রকম প্রাত্যাহিক, প্রতিদিন
ক্লান্তি, শ্রান্তি
পরিশ্রান্ত, বিমর্ষ
অপেক্ষা, ধীর লয়ের সময় প্রবাহ
আজ একই রকম, আজ একই রকম
প্রাত্যাহিক, প্রতিদিন

প্রতিদিন একই রকম

প্রতিদিন একই রকম। ম্যাড়ম্যাড়ে, ক্লান্ত, ধীর, অর্থহীন। নতুন খবরের জন্য, সুসংবাদের জন্য ধৈর্য ধরে দিন গোনা। আশা করা ভাল কিছুর,