সেনাপ্রধানের কৃতিত্ব

আজকের পত্রিকায় সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের একটি দারুণ সাফল্যের খবর এসেছে। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল।

সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের উদ্যোগে বেঁচে গেলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা। গতকালকের পত্রিকায় এ সম্পর্কিত একটি খবর প্রকাশ হলে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ফাঁসি মওকুফের আবেদনটি বিবেচনা করেন এবং তাতে সায় দেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব :) সিআর দত্ত বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধা রাখালচন্দ্র নাহার প্রাণভিক্ষা করে রাষ্ট্রপতি বরাবরে আবেদন করেছিলেন। কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীও রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রাণভিক্ষার আবেদন জানান। সেনাপ্রধানের বিশেষ উদ্যোগেই রাখালচন্দ্র নাহার প্রাণ বেঁচে গেল। ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠন এ কারণে সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

খবরে প্রকাশ ১৯৯৯ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বেগমাবাদ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাখালচন্দ্র নাহার আত্মীয় জ্যাঠাতো বোনের জামাই শ্রী দীনেশচন্দ্র দত্ত তার লোকজন নিয়ে রাখালচন্দ্র নাহার বাড়িতে হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নিজেদের লোকদের লাঠির আঘাতে দীনেশ দত্ত মারাত্মক আহত হয় এবং পরে হাসপাতালে মারা যায়। এই ঘটনাতে রাখালচন্দ্র নাহার কোন হাত ছিল না। ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ তাকে ফাসির আদেশ প্রদান করেন। হাইকোর্টে আপীল করলে ২০০৪ সালের ৯ নভেম্বর তারিখে তা খারিজ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে মূল ঘটনার পর ১১ বছর পেরিয়ে গেছে। আজকে রাষ্ট্রপতির তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ফাসির আদেশটা স্থগিত করে দেন। রাখালচন্দ্র নাহার সন্তানেরা তার ১১ বছর জেল খাটার বিষয়টি বিবেচনায় এনে তাকে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ তাঁর আজকের এই কৃতিত্বের জন্য আমাদের মত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কাছ থেকে হাজার সালাম প্রাপ্য হয়ে গেলেন। তিনি বলেন -একজন মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রাখালচন্দ্র নাহাকে ফাসি দেয়া হবে সংবাদটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করলাম, হয়ত সে অন্যায় করেছেন। বিচারক তাই ঠিকই বিচার করেছেন। তবুও সে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তার প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো কর্তব্য।…. এটা আমাদের বিরাট প্রাপ্য যে রাখালচন্দ্র নাহা একজন বীর মক্তিযোদ্ধা। তিনি দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে শত্রুর সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। ….আমাদের সকলেরই দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। তারা মুক্তিযুদ্ধ করে তাদের জীবন দিয়েছেন আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, আমরা যদি তাঁদের দিকে না তাকাই, সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে দেই, তাহলে এটা বড়ই অন্যায় কাজ হবে।…. পত্রিকায় পড়েছি মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন জায়গায় না খেয়ে আছেন। আমরা এসব খবরের প্রতি দৃষ্টি দেব এবং দেশবাসীকে বলব তাদের প্রতি আমরা যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই।

সত্যিই তাই, আজ যেখানে রাজাকার আলবদররা বুক ফুলে রাস্তায় হেটে বেড়াচ্ছে। সেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা ফাসিতে মারা যাচ্ছিলেন এটা ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়। সেনাপ্রধান আমাদের মনকে আনন্দে পূর্ণ করেছেন এজন্য তাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আজ আমার বাবা সুনীল চন্দ্র বর্মন সহ আরও ৪ (চার) জনকে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জেলা প্রশাসন সম্মাননা প্রদান করেছে। একটি ক্রেস্ট, একটি সার্টিফিকেট ও ৫০০ টাকার প্রাইজবন্ড দিয়ে তাদেরকে স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে সম্মান প্রদর্শন করেছে। আমার কাছে বিষয়টি বিশাল গর্ব ও আনন্দের।

 মুক্তিযোদ্ধা সংসদ

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে জাতীর গর্ব বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধারা প্রথমে মার্চপাস্ট করে আজকের অনুস্ঠানের শুভ সূচনা করে।

 বাবার হাতে ক্রেস্ট

বাবার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়া হচ্ছে।

 বাবার হাতে ক্রেস্ট

বাবা ডিসি মহোদয় এর সাথে হাত মেলাচ্ছেন।

 হাস্যেজ্জ্বল বাবা

একটি হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্ত। বাবার সাথে আছে ডিসি মহোদয়, পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এবং আরও তিনজন সম্মাননাপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা।

সকলে

সকলে একসাথে ফটোসেশনে দাড়িয়েছেন।

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

কালো রাত

আজকের রাতে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানীরা নিরস্ত্র বাঙালির উপর হিংস্রভাবে ঝাপিয়ে পড়েছিল। জগন্নাথ হল  ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, রাজারবাগ, পিলখানাসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় সুসজ্জিত সেনাবাহিনী অস্ত্রহাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। মারা যায় অসংখ্য মানুষ। ঠিক কত জন মারা যায় তার কোন প্রমিত পরিসংখ্যান নেই। তবে বিদেশী সাংবাদিকদের ধারণা প্রায় ১ লাখ লোককে এই কালো রাতে হত্যা করা হয়েছিল।

আমি তাদের মহান আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

আজ ৭ই মার্চ

�ই মার্চের �াষণ

রমনার রেসকোর্স ময়দান, অধুনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ঐতিহাসিক ছবি। পিছনে রমনার কালীমন্দিরের চূড়া দেখা যাচ্ছে।

আজ ৭ই মার্চ। ১৯৭১ সনের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তৎকালীন রেসেকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। পাকিস্তানীদের সাথে লাগাতার মতবিরোধ এবং পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে তাঁর এই ভাষণ খুব তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কলরব এই ভাষনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই ভাষণ বাঙালিদেরকে নতুন যুগের স্বপ্ন দেখিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আজকের এই ভাষণটি প্রত্যেক বাঙালি তথা বাংলাদেশীর জন্য বারবার পাঠযোগ্য। তাই আমি এখানে ভাষণটি পুনপ্রকাশ করছি।

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম


আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি- আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও যশোরের রাজপথ আমার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে।
আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়-তারা বাঁচতে চায়। তারা অধিকার পেতে চায়। নির্বাচনে আপনারা সম্পূর্ণভাবে আমাকে এবং আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন শাসনতন্ত্র রচনার জন্য। আশা ছিল জাতীয় পরিষদ বসবে, আমরা শাসনতন্ত্র তৈরী করবো এবং এই শাসনতন্ত্রে মানুষ তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি লাভ করবে।
কিন্তু ২৩ বছরের ইতিহাস বাংলার মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ২৩ বছরের ইতিহাস বাংলার মানুষের মুমুর্ষু আর্তনাদের ইতিহাস, রক্ত দানের করুণ ইতিহাস। নির্যাতিত মানুষের কান্নার ইতিহাস।
১৯৫২ সালে আমরা রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয় লাভ করেও ক্ষমতায় বসতে পারিনি। ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক শাসন জারি করে আইয়ুব খান দশ বছর আমাদের গোলাম করে রাখলো। ১৯৬৬ সালে ৬-দফা দেয়া হলো এবং এর পর এ অপরাধে আমার বহু ভাইকে হত্যা করা হলো। ১৯৬৯ সালে গণ-আন্দোলনের মুখে আইয়ুবের পতনের পর ইয়াহিয়া খান এলেন। তিনি বলেলেন, তিনি জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবেন, শাসনতন্ত্র দেবেন, আমরা মেনে নিলাম।
তার পরের ঘটনা সকলেই জানেন। ইয়াহিয়া খানের সংগে আলোচনা হলো-আমরা তাকে ১৫ ইং ফেব্রুয়ারী জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার অনুরোধ করলাম। কিন্তু ‘মেজরিটি’ পার্টির নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি আমার কথা শুনলেন না। শুনলেন সংখ্যালঘু দলের ভুট্টো সাহেবের কথা। আমি শুধু বাংলার মেজরিটি পার্টির নেতা নই, সমগ্র পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা। ভুট্টো সাহেব বললেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহে অধিবেশন ডাকতে, তিনি মার্চের ৩ তারিখে অধিবেশন ডাকলেন।
আমি বললাম, তবুও আমরা জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যাব এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়া সত্বেও কেউ যদি ন্যায্য কথা বলে আমরা তা মেনে নেব, এমনকি তিনি যদি একজনও হন।
জনাব ভুট্টো ঢাকা এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনা হলো। ভুট্টো সাহেব বলে গেছেন আলোচনার দরজা বন্ধ নয়; আরো আলোচনা হবে। মওলানা নুরানী ও মুফতি মাহুমুদ সহ পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য পার্লামেন্টারী নেতা এলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা হলো- উদ্দেশ্য ছিলো আলাপ-আলোচনা করে শাসনতন্ত্র রচনা করবো। তবে তাদের আমি জানিয়ে দিয়েছি ৬-দফা পরিবর্তনের কোন অধিকার আমার নেই, এটা জনগণের সম্পদ।
কিন্তু ভুট্টো হুমকি দিলেন। তিনি বললেন, এখানে এসে ‘ডবল জিম্মী’ হতে পারবেন না। পরিষদ কসাই খানায় পরিণত হবে। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানী সদস্যদের প্রতি হুমকি দিলেন যে, পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলে রক্তপাত করা হবে, তাদের মাথা ভেঙে দেয়া হবে। হত্যা করা হবে। আন্দোলন শুরু হবে পেশোয়ার থেকে করাচী পর্যন্ত। একটি দোকানও খুলতে দেয়া হবে না।
তা সত্বেও পয়ত্রিশ জন পশ্চিম পাকিস্তানী সদস্য এলেন। কিন্ত পয়লা মার্চ ইয়াহিয়া খান পরিষদের অধিবেশন বন্ধ করে দিলেন। দোষ দেয়া হলো, বাংলার মানুষকে, দোষ দেয়া হলো আমাকে, বলা হলো আমার অনমনীয় মনোভাবের জন্যই কিছু হয়নি।
এরপর বাংলার মানুষ প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠলো। আমি শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম চালিয়ে যাবার জন্য হরতাল ডাকলাম। জনগণ আপন ইচ্ছায় পথে নেমে এলো।
কিন্তু কি পেলাম আমরা? বাংলার নিরস্ত্র জনগণের উপর অস্ত্র ব্যবহার করা হলো। আমাদের হাতে অস্ত্র নেই। কিন্তু আমরা পয়সা দিয়ে যে অস্ত্র কিনে দিয়েছি বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্যে, আজ সে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে আমার নিরীহ মানুষদের হত্যা করার জন্য। আমার দুঃখী জনতার উপর চলছে গুলী।
আমরা বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যখনই দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে চেয়েছি, তখনই ষড়যন্ত্র চলেছে-আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
ইয়াহিয়া খান বলেছেন, আমি নাকি ১০ই মার্চ তারিখে গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করতে চেয়েছি, তাঁর সাথে টেলিফোন আমার আলাপ হয়েছে। আমি তাঁকে বলেছি আপনি দেশের প্রেসিডেণ্ট, ঢাকায় আসুন দেখুন আমার গরীব জনসাধারণকে কি ভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে ।
আমি আগেই বলে দিয়েছি কোন গোলটেবিল বৈঠক হবে না। কিসের গোলটেবিল বৈঠক? কার গোলটেবিল বৈঠক? যারা আমার মা বোনের কোল শূন্য করেছে তাদের সাথে বসবো আমি গোলটেবিল বৈঠকে ?
তেসরা তারিখে পল্টনে আমি অসহযোগের আহবান জানালাম। বললাম, অফিস-আদালত, খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করুন।আপনারা মেনে নিলেন।
হঠাৎ আমার সঙ্গে বা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে একজনের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টা বৈঠকের পর ইয়াহিয়া খান যে বক্তৃতা করেছেন, তাতে সমস্ত দোষ আমার ও বাংলার মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। দোষ করলেন ভুট্টো- কিন্তু গুলী করে মারা হলো আমার বাংলার মানুষকে। আমরা গুলী খাই, দোষ আমাদের- আমরা বুলেট খাই, দোষ আমাদের।
ইয়াহিয়া সাহেব অধিবেশন ডেকেছেন। কিন্ত আমার দাবী সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে, হত্যার তদন্ত করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো পরিষদে বসবো কি বসনো না। এ দাবী মানার আগে পরিষদে বসার কোন প্রশ্নই ওঠে না, জনগণ আমাকে সে অধিকার দেয়নি। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে ২৫ তারিখে পরিষদে যোগ দিতে যাব না।
ভাইয়েরা, আমার উপর বিশ্বাস আছে? আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা, মানুষের অধিকার চাই। প্রধান মন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়ে আমাকে নিতে পারেনি, ফাঁসীর কাষ্ঠে ঝুলিয়ে নিতে পারেনি। আপনারা রক্ত দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সেদিন এই রেসকোর্সে আমি বলেছিলাম, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করবো; মনে আছে? আজো আমি রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রস্তুত।
আমি বলে দিতে চাই, আজ থেকে কোর্ট-কাচারী, হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট, অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহ অনির্দিষ্ট-কালের জন্য বন্ধ থাকবে। কোন কর্মচারী অফিস যাবেন না। এ আমার নির্দেশ।
গরীবের যাতে কষ্ট না হয় তার জন্য রিক্সা চলবে, ট্রেন চলবে আর সব চলবে।
ট্রেন চলবে- তবে সেনাবাহিনী আনা-নেয়া করা যাবে না। করলে যদি কোন দূর্ঘটনা ঘটে তার জন্য আমি দায়ী থাকবো না।
সেক্রেটারীয়েট, সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট জজকোর্ট সহ সরকারী, আধা-সরকারী এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো বন্ধ থাকবে। শুধু পূর্ব বাংলার আদান-প্রদানের ব্যাঙ্কগুলো দু-ঘন্টার জন্য খোলা থাকবে। পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে টাকা যেতে পারবেন না। টেলিগ্রাফ, টেলিফোন বাংলাদেশের মধ্যে চালু থাকবে। তবে, সাংবাদিকরা বহির্বিশ্বে সংবাদ পাঠাতে পারবেন।
এদেশের মানুষকে খতম করা হচ্ছে, বুঝে শুনে চলবেন। দরকার হলে সমস্ত চাকা বন্ধ করে দেয়া হবে।
আপনারা নির্ধারিত সময়ে বেতন নিয়ে আসবেন। যদি একটিও গুলী চলে তাহলে বাংলার ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলবেন। যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। রাস্তা ঘাট বন্ধ করে দিতে হবে। আমরা তাদের ভাতে মারবো-পানিতে মারবো। হুকুম দিবার জন্য আমি যদি না থাকি, আমার সহকর্মীরা যদি না থাকেন, আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ কিছু বলবেনা। গুলী চালালে আর ভাল হবে না। সাত কোটি মানুষকে আর দাবীয়ে রাখতে পারবা না। বাঙ্গালী মরতেশিখেছে, তাদের কেউ দাবাতে পারবে না।
শহীদদের ও আহতদের পরিবারের জন্য আওয়ামী লীগ সাহায্যে কমিটি করেছে। আমরা সাহায্যের চেষ্টা করবো। আপনারা যে যা পারেন দিয়ে যাবেন।
সাত দিনের হরতালে যে সব শ্রমিক অংশ গ্রহণ করেছেন, কারফিউর জন্য কাজ করতে পারেননি-শিল্প মালিকরা তাদের পুরো বেতন দিয়ে দেবেন।
সরকারী কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। কাউকে যেন অফিসে দেখা না যায়। এ দেশের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ থাকবে। আপনারা আমার উপর ছেড়ে দেন, আন্দোলন কিভাবে করতে হয় আমি জানি।
কিন্তু হুঁশিয়ার, একটা কথা মনে রাখবেন, আমাদের মধ্যে শত্রু ঢুকেছে, ছদ্মবেশে তারা আত্মকহলের সৃষ্টি করতে চায়। বাঙ্গালী-অবাঙ্গালী, হিন্দু-মুসলমান সবাই আমাদের ভাই, তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের।
রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্র যদি আমাদের আন্দোলনের খবর প্রচার না করে তবে কোন বাঙ্গালী রেডিও এবং টেলিভিশনে যাবেন না।
শান্তিপূর্ণভাবে ফয়সালা করতে পারলে ভাই ভাই হিসাবে বাস করার সম্ভাবনা আছে, তা না হলে নেই। বাড়াবাড়ি করবেন না, মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রস্তুত থাকবেন, ঠাণ্ডা হলে চলবে না। আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়লে তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। শৃংখলা বজায় রাখুন। শৃংখলা ছাড়া কোন জাতি সংগ্রামে জয়লাভ করতে পারে না।
আমার অনুরোধ প্রত্যেক গ্রামে, মহল্লায়, ইউনিয়নে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলুন। হাতে যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।
এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।

 

স্বাধীনতার মাস‌

আজ ১ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মার্চ মাসে হিংস্র পাকিস্তানিরা শুরু করেছিল এক ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ। তারা বাংলাদেশের মাটি চেয়েছিল। এজন্য মানুষশূন্য করার এক পৈশাচিক খেলায় মেতে উঠেছিল তারা। এদেশীয় জামাত শিবির রাজাকাররা তাদের সে রক্তনেশায় সঙ্গী হয়েছিল। শুরু হয়েছিল এক অমর কাব্যগাঁথা যার নাম মুক্তিযুদ্ধ

মুক্তিযুদ্ধের কবিতা

মুক্তিযুদ্ধকালীন আমেরিকার বিট আন্দোলনের অন্যতম সদস্য, প্রখ্যাত কবি এ্যালেন গীনেসবার্গ বাংলাদেশে এসেছিলেন। যশোর রোডের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। লিখে ফেলেছিলেন এক বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। কবিতাটির চিত্রায়ন হয়েছে এটা জানতাম না। ইউটিউবে ঘুরতে ঘুরতে পেয়ে গেলাম। ভিডিওটি দেখা যাবে এখানে