এই কয়দিন

গত কয়েকদিন কিছুটা অসুস্থ ছিলাম। তাই কম্পিউটারের সামনে বসতে পারিনি। আজ কিছুটা ভাল লাগছে।

এই কয়দিন আবহাওয়ার ব্যবহারের তেমন কোন পরিবর্তন হয় নাই। দিনে প্রচণ্ড গরম। রাতে ঠাণ্ডা। বিশেষত: কয়েকদিন ধরে মধ্যরাতের পর বৃষ্টি হচ্ছে।

বাসায় ভাগ্নে, ভাগ্নি সহ বোন এসেছে। তারা কয়েকদিন থাকবে। ৫ বৎসর বয়সী ভাগ্নে আর ৭ মাস বয়সী ভাগ্নিকে নিয়ে বেশ আনন্দেই কাটছে সময়।

হায় নার্গিস!

দক্ষিণাঞ্চলে নার্গিস নামক ঘুর্ণিঝড় বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। শক্তিশালী এই ঝড়টি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আঘাত হানছে না। আজ মায়ানমারের ইয়াঙ্গুন এর উপর দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু এর প্রভাব ক্ষীণ নয়। কয়েকশত কিলোমিটার দূরের এই কুড়িগ্রামের আকাশ সারাদিন গুমোট ছিল, মেঘলা ছিল। বৃষ্টির ভয় ছিল। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি হল না। তবে গত কয়েকদিন থেকে প্রতিটি রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। আশেপাশের নিচু জমি জলে ভরে গেছে। কৃষকের মাথায় হাত। ধান পাকার উত্তুঙ্গ মুহূর্ত চলছে। কোন ক্ষেতে ধান পেকে গেছে। কোনটা দু’য়েকদিনের মধ্যে পাকবে। এই সময় ঝড়বৃষ্টি হলে কৃষকের সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এবং হয়েছেও তাই। বেশ কিছু জমিতে পাকা ধানের গাছ বাতাসে ও জলে ভিজে মাটিতে শুয়ে গেছে। কোন জমিতে জল জমে গেছে। কৃষকেরা ব্যস্ত হয়ে জলে ভেজা ধান বাড়িতে এনে তুলছে। যাদের পাকেনি তারাও আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছে। রোদের তেমন জোর নেই। ভেজা ধান বেশিদিন গাদা করে রাখলে পচে যেতে পারে। চালের এই দূর্মূল্যের বাজারে নার্গিস আমাদের জন্য অমঙ্গলের বার্তা বয়ে নিয়ে এল। নার্গিস এর জন্য গরম কমে গেলেও খাদ্যের ভাঁড়ারে টান পড়ার জোগার হয়েছে।

খাদ্য হিসেবে আলু

সম্প্রতি খাদ্য হিসেবে আলু গ্রহণ করা নিয়ে বেশ বিতর্ক জমে উঠেছে। আমার কাছে বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। কারণ আলু একটি পুষ্টিকর খাবার। হয়তো অসময়ে বলা হয়েছে; কিন্তু তার মানে এই নয় যে কথাটি অগ্রহণযোগ্য। আমার যতদূর মনে পড়ে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেবের সময়ে আলুকে খাবার হিসেবে জনপ্রিয় করার বেশ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তখন বারবার প্রচার করা হত- “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”। কিন্তু আলুকে তখন সরকারি প্রত্যাশামতো প্রচলিত করা যায়নি। এবার সারা পৃথিবীতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সুযোগে আলু’র উপর নির্ভরতা যদি একটু বাড়ানো যায় তাহলে খুব ভাল হয়।

আমরা যে নতুন কিছু গ্রহণ করি না তা নয়। আমরা পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে মোবাইল ফোন, ভিসিডি ইত্যাদি গ্রহণ করেছি। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মোবাইল ফোন এবং সেই সম্পর্কিত বিনোদন চলে গেছে। তরুণদের রাত জাগার অভ্যাস বাড়ছে। আবার চিঠি লেখার মত ভাল অভ্যাস ত্যাগ করা হয়ে গেছে।

খাবার বিষয়েও আমরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই তো তিন-চার বছর আগে হাইব্রিড চালের ভাত খেতে চাইতাম না। রাবারের মত স্বাদ বা ঝরঝরে হয় না ইত্যাদি অজুহাত তুলতাম। কিন্তু এখন আর সেসব কথা কেউ ভাবে না। ব্রিগেড মাছ খেতেও এক সময় আমরা অনিচ্ছুক ছিলাম। কিন্তু এখন ব্রিগেড ছাড়া পাতে মাছ ওঠেনা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই পরিবর্তিত বৈশ্বিক অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও বেশি করে আলু খাবার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পুরনো শ্লোগান আবার উচ্চারণ করি “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”

আমাদের সংস্কৃতিতে আলু একটি অন্যতম উপাদান হোক, সরকারি এই প্রত্যাশার সাথে আমি একমত পোষণ করি।

দুর্গাপুরের ব্রিজ

উলিপুরের রাস্তায় দুর্গাপুরের পরে এই ব্রিজটি বহুদিন হল অসমাপ্ত পরে আছে। প্রতিদিন দেখি আর ভাবি এভাবে অসমাপ্ত পরে আছে কেন? সেদিন বাসের মধ্যে একজন মন্তব্য করছিল ব্রিজের ডিজাইনে কি যেন একটা ত্রুটি আছে সেজন্য নাকি কন্ট্রাকটরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে (শোনা কথা, নিশ্চিত নই)। ভাল করে খেয়াল করে দেখলাম কথাটা সত্যি হতেও পারে। কারণ ব্রিজের দু’পাশের মাটি আটকানোর জন্য যে উইং দেয়া দরকার তা দেয়া হয় নি। তার মানে ব্রিজ খুলে দেয়ার পর দু’দিনেই তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। দুপাশের মাটি বসে যাবে। তাছাড়া দুপাশের রাস্তার তুলনায় ব্রিজটা একটু বেশি বাঁকা করে নাকি তৈরি করা হয়েছে। আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নই। তারপরও রাস্তার বক্রতা আমার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় নি। ইচ্ছা করলে রাস্তা বরাবর প্রায় সোজা করে ব্রিজটি তৈরি করা যেত। সরকারি অর্থের অপচয়ের এটা আরেকটা দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

গরম এবং ঘাম

সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আবহাওয়া ঠাণ্ডা ছিল। বাসে যেতে হবে, ঠাণ্ডা লাগতে পারে এই ভয়ে ফুলহাতা শার্ট পরে বের হলাম। কিন্তু ১০ টার দিকেই আবহাওয়া দ্রুত পাল্টে গেল। তীব্র রোদের সাথে যুক্ত হয়েছে গরম। ঘেমে নেয়ে একাকার। এমনিতে ফুল হাতা শার্ট, তার উপর একটু মোটা কাপড়। আজকে খুব কষ্ট হয়েছে। সমস্ত শরীর ঘামে চিটচিট করছিল। শরীরের নরম অংশগুলি কাপড়ের ঘষায় ব্যথা করছিল। মনে হচ্ছিল অসুস্থ হয়ে যাবো। বাসায় এসে স্নান করার পর শরীরে স্বাভাবিকতা ফিরে এল।

কালবৈশাখীর ঝড়

গতকাল সন্ধ্যা ৭টার পর এই অঞ্চলে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। সাথে ছিল তুমুল শিলাবৃষ্টি। পুরাতন কুড়িগ্রাম শহরের দিকে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি ছিল। বেশ কিছু পুরনো ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়ে গেছে। অসংখ্য গাছের ডাল ভেঙ্গেছে। মজিদা ডিগ্রী কলেজ এর দেয়াল ধ্বসে পড়ে গেছে। তবে নতুন শহরে তেমন কিছু হয়নি। যথারীতি বিদ্যুৎ ছিল না।

রাত ৯টার দিকে সব থেমে গেল। নিশ্চুপ হয়ে গেল চারপাশ। আকাশে চাঁদ উঠল

গরম বাড়ছে। শরীর ঘামতে শুরু করেছে। মধ্যরাত পর্যন্ত গরম থাকলেও ভোর রাতে আবার ঠাণ্ডা লাগে। আমার আবার সহজে ঠাণ্ডা লাগে। অতএব এই অনুভূতিটা সবার একরকম নাও হতে পারে।

দ্রব্যমূল্য

  • তীব্র রোদ কিন্তু তাপ কম এমন একটা দিন গেল আজ। রোদে চোখ ঝলসে যায়। কিন্তু অতোটা গরম লাগে না। বিকেলে আবার ঠাণ্ডা লাগা শুরু করেছে। হাফ হাতা শার্ট গায়ে দিয়ে বের হয়েছিলাম। সর্দি লেগে গেছে।
  • অফিসে দ্রব্যমূল্য নিয়ে ভীষণ বিতর্ক হল। আমি কোন মন্তব্য করিনি। শুধু শুনলাম। কলিগদের বিভিন্ন মন্তব্য নিম্নরূপ:-

১। চালের মূল্য এই মুহুর্তে ৩৫/= টাকা কেজি। এটা আমাদের অর্থনৈতিক ব্যর্থতাকে প্রতিনিয়ত ব্যঙ্গ করছে। দ্রব্যাদি কিনতে ব্যর্থতার লজ্জা বহন করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

২। মাসের আজ ৬ তারিখ। এখনই অনেকের পকেটে ২০০০/= টাকা নেই। বাকী মাসটা চলবে কি করে। গতমাসের ধার তো সম্পূর্ণ শোধ করা এ মাসেও গেলনা। এই জায়গায় আমি মন্তব্য করেছি। আমি বেতনটা হাতে পেয়েছি ২ তারিখে। আজ আমার পকেটে আছে ১১৪৮/= টাকা। কি অদ্ভূত জীবন আমাদের।

৩। বিচারকরা তাদের মূল বেতনের সমান মহার্ঘ ভাতা দাবী করেছে। অতএব অন্য ক্যাডারের যারা তারা কেন এমনটা পেতে পারেনা। ক্যাডারভুক্ত হিসেবে তারার সমান অধিকারের অংশীদার।

৪। বিচারকরা বিদেশের বিচারকদের উদাহরণ এনে তাদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি মূল বেতন সম্পূর্ণটাই মহার্ঘ হিসেবে দাবী করেছে। বিদেশে বিচারকদের বেতন বেশি এটা ঠিক, তাই বলে কি অন্যান্য চাকুরীজীবিদের বেতন কম?

আসলে দ্রব্যমূল্য আমাদের অসহায়ত্বকে প্রতিদিন এমনভাবে অপমান করছে যে তা বলার মত নয়। সবাই অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।