সম্প্রতি খাদ্য হিসেবে আলু গ্রহণ করা নিয়ে বেশ বিতর্ক জমে উঠেছে। আমার কাছে বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। কারণ আলু একটি পুষ্টিকর খাবার। হয়তো অসময়ে বলা হয়েছে; কিন্তু তার মানে এই নয় যে কথাটি অগ্রহণযোগ্য। আমার যতদূর মনে পড়ে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেবের সময়ে আলুকে খাবার হিসেবে জনপ্রিয় করার বেশ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তখন বারবার প্রচার করা হত- “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”। কিন্তু আলুকে তখন সরকারি প্রত্যাশামতো প্রচলিত করা যায়নি। এবার সারা পৃথিবীতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সুযোগে আলু’র উপর নির্ভরতা যদি একটু বাড়ানো যায় তাহলে খুব ভাল হয়।
আমরা যে নতুন কিছু গ্রহণ করি না তা নয়। আমরা পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে মোবাইল ফোন, ভিসিডি ইত্যাদি গ্রহণ করেছি। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মোবাইল ফোন এবং সেই সম্পর্কিত বিনোদন চলে গেছে। তরুণদের রাত জাগার অভ্যাস বাড়ছে। আবার চিঠি লেখার মত ভাল অভ্যাস ত্যাগ করা হয়ে গেছে।
খাবার বিষয়েও আমরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই তো তিন-চার বছর আগে হাইব্রিড চালের ভাত খেতে চাইতাম না। রাবারের মত স্বাদ বা ঝরঝরে হয় না ইত্যাদি অজুহাত তুলতাম। কিন্তু এখন আর সেসব কথা কেউ ভাবে না। ব্রিগেড মাছ খেতেও এক সময় আমরা অনিচ্ছুক ছিলাম। কিন্তু এখন ব্রিগেড ছাড়া পাতে মাছ ওঠেনা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই পরিবর্তিত বৈশ্বিক অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও বেশি করে আলু খাবার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পুরনো শ্লোগান আবার উচ্চারণ করি “বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান”।
আমাদের সংস্কৃতিতে আলু একটি অন্যতম উপাদান হোক, সরকারি এই প্রত্যাশার সাথে আমি একমত পোষণ করি।